
মালদহ: মধ্যযুগীয় বর্বরতা! তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে তিন দিন ধরে গোয়াল ঘরে আটকে হাত পা মুখ বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ। খাবার, জল না দিয়ে ব্যাপক মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। কাঠগড়ায় স্বামী এবং পরিবারের সদস্যরা। বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত গৃহবধূর মা এবং ভাইও। অচৈতন্য অবস্থায় আক্রান্ত গৃহবধূকে উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাগমারা গ্রামে। আক্রান্ত গৃহবধুর নাম সাইবা খাতুন (৩০)।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মুজাহিদ আলম নিজের এক স্ত্রী নাগার বানু থাকা সত্ত্বেও গোপন রেখে সাইবাকে বিয়ে করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবারে গোলমাল বাধে। অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপর থেকেই নিয়মিত সাইবার ওপর অত্যাচার শুরু হয়। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।এই নিয়ে গ্রামে সালিশি সভাও বসে। গত মঙ্গলবার সালিশি সভায় মুজাহিদকে সতর্ক করা হয়।সাইবাকে ঘিরে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ, গত মঙ্গলবার থেকেই গোয়ালঘরে হাত পা মুখ বেঁধে ফেলে রাখে সাইবাকে। সেখানেই চলতে থাকে নির্যাতন। আজ এক শিশু তা দেখে ফেলতেই গ্রামে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সাইবাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার নাম করে জমির আল দিয়ে গোপনে পেঁয়াজের ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চলে মারধর। খবর পেয়ে সাইবার মা আর ভাই ঘটনাস্থলে যান। বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁরাও। ছুটে যায় গ্রামের লোকজন। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
সাইবাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁর মা পুতুল বিবি এবং ভাই হুসেন আলি। সাইবা তাঁর মা এবং ভাই আহত অবস্থায় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামি মুজাহিদ আলম, প্রথম পক্ষের স্ত্রী নাগার বানু, ভাসুর সামসেদ আলি, বউদি রুপালি খাতুন-সহ পরিবারের আরও সদস্যের বিরুদ্ধে।অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি উঠেছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।