
মালদহ: আশাহত ডিম ব্যবসায়ীরা। সামনে ভাল ডিমের সঙ্গে গাদা গাদা পচা ডিমও সাজিয়ে রাখা। এই আশায় যদি ডিম থেরাপির জন্যে বিক্রি হয়। চড়া দামে। কিন্তু সেগুড়ে বালি। ইংরেজবাজার পুরএলাকায় কোন তৃণমূল নেতাকে ডিম ছুঁড়ছে না কেউ। ধোয়া তুলশী পাতা কেউ নয়, কাছেপিঠে সকলের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ, তবুও ডিম ছুঁড়ছে না কেউ। আজব ছবি মালদহে। পুর এলাকায় বিক্রি নেই পচা ডিমের। অথচ অন্যত্র ভালো ডিমের থেকেও বেশি দামে পচা ডিম বিক্রি হয়েছে শুধুমাত্র দুর্গন্ধের কারণে। পেটি পেটি পচা ডিম বিক্রি হয়েছে বেশি দামে। রাজ্যের সর্বত্র চলেছে এমনকি মালদাতেও মানিকচক, চাঁচল, হবিবপুরে ডিম থেরাপি হয়েছে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে।
ব্যতিক্রম শুধু মালদহ শহর, বিশেষ করে ইংরেজবাজার পুরএলাকায়। দোকানদাররা নিজেরাই পচা ডিম সাজিয়ে, দুর্গন্ধে জেরবার। তারমধ্যে বিক্রি নেই। অথচ, ইংরেজবাজার পুরসভা তৃণমূল পরিচালিত। রাজ্যে সরকার বদলে গেলেও চেয়ারম্যান, কাউন্সিলররা দিব্যি আছেন। পুরসভায় যাচ্ছেন আসছেন। কম বেশি প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রোজই প্রায় অভিযোগ জমা পড়ছে। বিভিন্ন দুর্নীতির। চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্যান্য কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জেলা শাসজের দফতর , ইংরেজবাজার থানা এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে জমি আত্মসাতের, অবৈধ নির্মাণের, তোলাবাজি ইত্যাদির। ক্ষোভও রয়েছে মানুষের মধ্যে। কিন্তু সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নেই।
ডিম থেরাপিও নেই। রাস্তায় বেরোলে বা অফিসে সেই সব কাউবসিলর বা চেয়ারম্যানের সঙ্গে লোকজন বা অনুগামীদের ভিড় হয়তো আর দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু ডিমও ছুঁড়ছে না কেউ।
এই নিয়ে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “আমরা ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি। আমি বামফ্রন্টের সঙ্গেও সম্পর্কটা রাখতাম। সকলের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখতাম। আর আমি এটা মেনটেইন করি বলেই, এখানে চরম কিছু হচ্ছে না। ” উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ডিম থেরাপি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। ডিম ছোড়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের কাছে হলফনামা তলব করেছে আদালত।