
মুর্শিদাবাদ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কটাক্ষ করে বলেছিলেন এবার থেকে পুজোয় স্টল দিতে চাইলে শারদোৎসব না লিখে দুর্গা পূজা লিখতে হবে কমিউনিস্টদের। আর এরই মধ্যে এবার বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাসের হুঁশিয়ারি, দুর্গাপুজো না লেখা থাকলে স্টল ভেঙে দেওয়া হবে। দরকারে তিনি নিজে বামেদের স্টল ভেঙে দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
বিরাজের বক্তব্য, যাঁদের কাছে ধর্মের কোনও মানে নেই। যাঁরা ধর্ম মানে না তারা কেন স্টল দেবে? তিনি বলেন, “কেন ওরা স্টল দেবে? ওরা তো ধর্ম মানে না। ধর্মকে ওরা আফিম মনে করে। তাদের জন্য তো পুজোই নয়। দরকার নেই, এই স্টল তো আমি ভাঙব ওইখানে যদি দুর্গাপুজো না লেখা থাকে।” পাল্টা বলেছেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেসও এমন কথা বলেছিল। কিশোর কুমারের গান চলবে কি না সেটা সঞ্জয় গান্ধী ঠিক করে দেবেন। যাঁরা লাথি মারে ইতিহাস তাদের মুছে দেয়। যাঁরা লাথি খায়, হাত মুঠো করে রুখে দাঁড়ায়। আমরাও রুখে দাঁড়াব। এরপর যদি আইনের শাসন রাজ্যে না থাকে তাহলে তার দায় মুখ্যমন্ত্রী সহ সকলকে নিতে হবে।”
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে এ রাজ্যে রাজনীতির পারদ যেন ততই চড়ছে। সেই আঁচ আরও বাড়ে যখন বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বামেদের স্টল দেওয়া নিয়ে আক্রমণ করেন। এখানেই শেষ নয়, এরপর গণেশপুজোর একটি অনুষ্ঠান থেকে তিনি আরও বলেন, “প্যান্ডেল থেকে দূরে লাল শালু লাগিয়ে বসত। সেখানে যে বইগুলো থাকত, তার মধ্যে একটাও স্বামী বিবেকানন্দের লেখা পাবেন না। উদ্বোধন প্রকাশনী (বেলুড় মঠ), প্রণব প্রকাশনী (ভারত সেবাশ্রম) পাবেন না। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন না। ভারত ভাগ সম্পর্কে কোনও বই পাবেন না। কার্ল মার্ক্স লেনিনের বই পাবেন। হাজার চেষ্টা করলেও গীতা, হনুমান চল্লিশা পাবেন না।” তবে এর উত্তরে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেছেন, “আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স, লেনিনের বই পড়তে শিখিয়েছিলেন যিনি, তিনি হলেন স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।”