
বহরমপুর: সাতসকালে মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Murshidabad Rail Accident)। রেললাইন পারাপারের সময় পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে তিন পড়ুয়ার। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরও কয়েকজনকে। গোটা ঘটনায় গেটম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে, ঘটনার পরই তৎপর পূর্ব রেল (Eastern Railway)। ঘটনার যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলের তরফে। প্রথমে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনায় গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়। পরে গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পূর্ব রেল জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ তথ্য তাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি। তবে, ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের তরফে বিশেষ টিমও পাঠানো হচ্ছে ঘটনাস্থলে। রেল প্রাথমিকভাবে জানায়, সিগন্যালের কোনও সমস্যা ছিল না। সেক্ষেত্রে গেটম্যানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বহরমপুরে কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে প্রথমে একটি আপ ট্রেন যায়। গেট তুলে দেওয়ার পর ওই পুলকার যেতেই ট্র্যাকে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সেইসময় কোনও গেটম্যান ছিলেন না বলেই দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের রেলগেট যেগুলি মূল ম্যানুয়ালি অপারেট করা হয়, সেগুলিকে ইন্টারলকিং গেট বলা হয়। এক্ষেত্রে গেটম্যান কোথায় ছিল, আদৌ ছিল কি না, থাকলে কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিগন্যাল ছিল না বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। তবে, রেলের তরফে জানানো হয়েছে, সিগন্যালের কোনও সমস্যা ছিল না। সিগন্যাল মেনেই ট্রেন এসেছে। এখানে গেট ম্যানের ভূমিকাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, রেলের নির্দেশের পরই সকালে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল হাওড়া স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। পূর্ব রেলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, এসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে রেল। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
এরপরই গেটম্যানকে তৎপরতার সঙ্গে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই গেটম্যান মত্ত অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে পুলিশের তরফে।
বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র জানিয়েছেন, এতগুলো পড়ুয়ার মৃত্যু মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। কী কারণে এতগুলো স্কুল পড়ুয়ার প্রাণ গেল, তা রেলের তদন্ত করে দেখা উচিৎ। অন্যদিকে, অধীর চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেন। গোটা ঘটনার বিষয়ে জানান। মন্ত্রী যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধীর। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রেলে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের উপর পুলকারে ধাক্কা মারে চলন্ত ট্রেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে নবদ্বীপ লাইনের একটি আপ ট্রেন ওই লাইন দিয়েই বেরিয়ে যায়। তখনও রেল গেট ফেলা ছিল। ট্রেন বেরিয়ে যাওয়ার পর রেল গেটটি তুলে দেওয়া হয়। সেইসময় পুলকার ও বাকি গাড়িগুলিও এগোতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় ট্র্যাকে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। তখনই গেট ফেলে দেওয়া হয়। ততক্ষণে বেরোতি পারেনি ওই পুলকার ও সাইকেল আরোহী। চলন্ত ট্রেন ধাক্কা মারে পুলকার ও সাইকেল আরোহীকে।