
ঘাটাল: কেউ অসুস্থ হলেন। কিংবা কোনও প্রসূতি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলেই চিন্তায় পড়েন গ্রামের মানুষ। কারণ, গ্রামের রাস্তা। বর্ষাকালে যে রাস্তায় দিয়ে যাতায়াত করাই দুষ্কর। রোগীকে খাটিয়ায় চাপিয়ে এক কিলোমিটার নিয়ে যেতে হয়। রাতে কেউ অসুস্থ হলে আরও চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। রাস্তায় কোনও আলো নেই। টর্চের আলোতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীকে খাটিয়ায় চাপিয়ে নিয়ে যেতে হয় পরিজনদের। রাস্তার এই দুরবস্থার ছবি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের।
ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হলে রাজ্য সড়ক পর্যন্ত খাটিয়ায় করেই রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। ছোট রাস্তার কারণে গাড়ি ঢোকে না গ্রামে । জয়কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে দাসপুর, কেশপুর যাওয়ার রাজ্য সড়কের রাজনগর ব্রিজে আসতে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা এভাবেই কাঁধে করে রোগীকে নিয়ে আসতে হয়।
তেমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের সুকদেব মান্না হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে খাটিয়ায় করে নিয়ে আসা হচ্ছে রাজ্য সড়ক পর্যন্ত। রাজ্য সড়ক থেকে গাড়ি করে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের তিন দিকে নদী। মাঝে ৩৭টি পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মধ্যে বসবাস করছেন এই পরিবারগুলি। গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তায় গাড়ি ঢোকে না। তাই এভাবেই রোগীকে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে।
কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?
স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম পাত্র বলেন, “এখানে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ। শিলাবতী নদী এই গ্রামকে বিভক্ত করেছে। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। বর্ষাকালে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল যেতে পারে না। অনেক দূরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। আবার এখান থেকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল ১৭ কিমি। ১ কিমি রাস্তা এভাবে রোগীকে দোলায় নিয়ে যেতে হয়। ঢালাই রাস্তার আবেদন করছি আমরা।” অন্য এক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তা সংস্কারের জন্য আগে আমরা অনেকবারই বিক্ষোভ দেখিয়েছি। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি।” রাজ্যে পালাবদলের পর রাস্তার সংস্কার নিয়ে আশাবাদী গ্রামবাসীরা।
কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক?
রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “১৫ বছরের তৃণমূলের আমল ও সিপিএমের আমলে এলাকার কোনও উন্নয়ন হয়নি। আমাদের সরকারের এই অল্প কয়েকদিন বয়স হয়েছে। আমরা এলাকার মানুষের সমস্যাগুলি জানি। ধীরে ধীরে আমরা এলাকার সমস্ত সমস্যার সমাধান করব।”