
বহরমপুর: প্রাণ গিয়েছে ক্ষুদে পড়ুয়াদের। দুর্ঘটনার বীভৎসতায় শিউরে উঠেছে গোটা বাংলা। কিন্তু শুক্রবার সকালে কিভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? কর্ণসুবর্ণ রেলস্টেশন থেকে মাত্র ১.৭ কিমি দূরে গোবিন্দপুর রেলগেট। আপ এবং ডাউন, দুই লাইনই ব্যস্ত থাকে দিনভর। খবর হয়, সকাল ৬ টা ২৮ মিনিটে, আপ লাইনে নবদ্বীপ ধাম থেকে বালুরঘাট এক্সপ্রেস যাবে। রেলগেট বন্ধ করে দেওয়া হয় ৬টা ১৭ মিনিট নাগাদ। নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ ৬টা ২৮ মিনিট নাগাদ নবদ্বীপ ধাম থেকে বালুরঘাটের দিকে আপলাইন দিয়ে চলে যায় এক্সপ্রেস ট্রেনটি।
এরপর ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ নিমতিতার দিক থেকে কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসার কথা ডাউন লাইনে। অভিযোগ, সেই তথ্য থাকা সত্বেও রেলগেট দু’দিকেই খুলে দেন গেটম্যান অনুপ কর্মকার। তাতেই বিপত্তি।
এদিকে আগে থেকে গেট বন্ধ থাকায় রেললাইন নিকটবর্তী জায়গাতেই থাকা স্কুলগুলির পুল কার তখন গেটের একদিকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে শুরু করেছে। গেট খুললেই গাড়িগুলি ডাউন লাইনের দিকে থাকা স্কুলের দিকে যাবে। এদিকে ডাউন লাইনে ট্রেন আসার সময় হয়ে গেলেও গেট খুলে দেওয়া হয়। একটি পুলকার লাইন পেরিয়ে স্কুলের দিকে চলে যায়। সেই সময় পিছনের দিকে থাকা আরেকটি পুলকার লাইনের উপর চলে আসে স্কুলের দিকে যাওয়ার জন্য। সূত্রের খবর, তখনই গেটম্যান অনুপ কর্মকার দু’দিকের গেট ফেলে দেন। ফলে ডাউন রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে যায় ওই পুলকারটি। ওই সময় ওই লাইনে ট্রেনটি আসতে দেখে পুলকারে থাকা পরিবার রীতিমতো চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু কিছুই আর করার ছিল না তাঁদের। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ছুটে আসে।
প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ৬টা ৪১মিনিট নাগাদ নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ছুটে আসে। সোজা ধাক্কা লাগে পুলকারটিকে। প্রায় ৫০-৬০ মিটার দূরে গিয়ে পুলকারটি উড়ে গিয়ে পড়ে আপলাইনের উপরে। পুলকারের পেছনেই ছিল এক সাইকেল আরোহী। ট্রেনের ধাক্কায় তিনিও অনেকটা দূরে উড়ে গিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই সাইকেল আরোহীর।
বারবার উঠেছিল অভিযোগ
ধাক্কার তীব্রতায় সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় পুলকারটি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় দুই পড়ুয়ার। বাকিদের দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরবর্তীকালে আরও দু’জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা দেখে ওই গেটম্যান অনুপ কর্মকার প্রথমে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীকালে সে ধরা পড়ে যায়। অভিযোগ এই প্রথমবার নয়। অতীতে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে গেটম্যানরা। যার মধ্যে অন্যতম ছিল এই অনুপ কর্মকার। অভিযোগ, গত পরশুদিন অর্থাৎ বুধবার ট্রেন চলে যাওয়ার পর প্রায় ৪০ মিনিট পর গেট ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন এই গেটম্যান। এলাকার বাসিন্দারা চিৎকার করে হর্ন দিয়ে গেট খোলেন। অভিযোগ, দিনের পর দিন গেটম্যানরা মদ্যপ এবং মাদকাগ্রস্ত অবস্থায় ডিউটি করতেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।