Lakshmir Bhandar: কীভাবে হত লক্ষ্মীর ভান্ডারে জালিয়াতি? হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেল

Lakshmir Bhandar Scam: রাকিবুল শেখের তিনটি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকত। সেখানে তারিকুল রহমানের আটটি অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকত। এই দু'জনকে ছাপিয়ে গিয়েছেন মোস্তাফিজুর। এই জালিয়াতি চক্রের কিংপিং মোস্তাফিজুরের ১৩টি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত। কীভাবে একজন এত অ্যাকাউন্টে টাকা পেতেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Lakshmir Bhandar: কীভাবে হত লক্ষ্মীর ভান্ডারে জালিয়াতি? হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেল
লক্ষ্মীর ভান্ডারে কীভাবে দুর্নীতি হত?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

May 31, 2026 | 6:10 AM

মুর্শিদাবাদ: মহিলাদের জন্য প্রকল্প। আর সেই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের প্রাপকের তালিকায় পুরুষরা। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদের রাকিবুল শেখের নাম জানান। গ্রেফতার করা হয় রাকিবুলকে। তারপর তদন্ত এগোতেই একের পর এক নাম সামনে আসে। মুর্শিদাবাদে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে রীতিমতো জাল বিছিয়েছিল জালিয়াতি চক্র। 

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে কীভাবে জালিয়াতি হত?

নতুন সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে সুবিধাপ্রাপকদের অন্নপূর্ণা যোজনায় নিয়ে আসার কথা বলতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জালিয়াতির কথা বলেছিলেন। তারপরই মুর্শিদাবাদে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় রাকিবুলকে। তারপর মোস্তাফিজুর রহমান নামে আর একজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর মোস্তাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করা হয় তারিকুল রহমান নামে এক ব্যক্তিকে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার জালিয়াতি চক্রের কিংপিং মোস্তাফিজুর। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ব্লকের এক অস্থায়ী কর্মীর সঙ্গে যোগসাজসে এই চক্র চালাতেন মোস্তাফিজুর। তিনিই তারিকুলের একাধিক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।  ধৃত রাকিবুল হলেন তারিকুলের আত্মীয়। তারিকুলের কাছ থেকে জেনেই রাকিবুলও মোস্তাফিজুরের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পেতে শুরু করেন।

কারও তিনটি অ্যাকাউন্টে, কারও ১৩টি অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা-

লক্ষ্মীর ভান্ডারে মহিলা প্রথমে ৫০০ টাকা পেতেন। পরে তা বেড়ে হয় ১০০০ টাকা। তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা পেতেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৫০০ টাকা করে বাড়ায় তৎকালীন তৃণমূল সরকার। ফলে তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা ও অন্যরা মাসে ১৫০০ টাকা করে পান। একজন মহিলা একটি অ্যাকাউন্টেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পান। কিন্তু, মোস্তাফিজুররা একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়েছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পেতে মহিলা নাম ব্যবহার করতেন।

রাকিবুল শেখের তিনটি অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকত। সেখানে তারিকুল রহমানের আটটি অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকত। এই দু’জনকে ছাপিয়ে গিয়েছেন মোস্তাফিজুর। এই জালিয়াতি চক্রের কিংপিং মোস্তাফিজুরের ১৩টি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত। কীভাবে একজন এত অ্যাকাউন্টে টাকা পেতেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই জালিয়াতি চক্রের জাল অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। ধৃতদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Follow Us