
মুর্শিদাবাদ: গরু পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিআইডি যে বহুতলটি সিজ করে রেখেছিল, সেখানেই ভয়াবহ আগুন। বুধবার সকালে মুর্শিদাবাদের উমরপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ওই পরিত্যক্ত পাঁচ তলা ভবনে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। কিন্তু দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন ছড়াতে থাকে দ্রুত। খবর দেওয়া হয় দমকলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতলটি গরু পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত এনামুল হকের ভাগ্নেদের মার্বেলের দোকান ছিল। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়কের ধারের এই পাঁচ তলা ভবনটি সিজ করে রেখেছিল। বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই ভবনেই এদিন সকালে হঠাৎই আগুন ধরে যায়।
খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সুতি থানার পুলিশ এবং দমকলের ২টি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। কীভাবে এবং কোথা থেকে এই আগুন লাগল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এটি নিছকই কোনও দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী।
প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলার কিংপিন এনামুল হকের তিন ভাগ্নে জাহাঙ্গির আলম, হুমায়ুন কবির ও মেহেদি হাসানের মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের উমরপুর মোড় এবং রাজারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মার্বেলের ব্যবসা ও দোকান ছিল। গোয়েন্দাদের মতে, ২০১৯ সালের আগে এই দোকানগুলির কোনও কোনওটি হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা পরে মার্বেলের দোকানে রূপান্তরিত করা হয়। আর্থিক লেনদেন ও কালো টাকা সাদা করার অভিযোগে এই মার্বেলের দোকানগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে সেগুলি সিল করে দেয় তদন্তকারী সংস্থা। তাতে আগুন লাগায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। গরু পাচার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কোনও প্রমাণ-নথি পুড়িয়ে দিতেই কি আগুন? প্রশ্ন উঠছে।