Murshidabad: ‘মা মনটা কেমন করছে, একটু জল দাও না’, রেল দুর্ঘটনার আগে কু ডেকেছিল একরত্তি জেসিকার?

Murshidabad School Van Tragedy: অন্যদিনের মতোই সন্তানকে এদিনও সকালে স্কুলের পোশাক পরিয়ে দিয়েছিলেন ফারহানার মা। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বহু মানুষ ভিড় করেছেন। কেউ কাঁদছেন। কেউ অন্যকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আবার কেউ গেটম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আর ফারহানার মা রিনা বেগম ঘরে বাইরে বসে রয়েছেন।

Murshidabad: ‘মা মনটা কেমন করছে, একটু জল দাও না’, রেল দুর্ঘটনার আগে কু ডেকেছিল একরত্তি জেসিকার?
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতদের পরিবারের লোকজনImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 17, 2026 | 4:53 PM

মুর্শিদাবাদ: কান্নার রোল। কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। আবার কখনও দু’হাত বাড়িয়ে যেন কাউকে খুঁজছেন। নিজের সন্তানের নাম ধরে বারবার ডাকছেন। কিন্তু, আজ যে সাড়া দেওয়ার জন্য সেই ছোট্ট সন্তান নেই। কয়েক ঘণ্টা আগেও যাকে স্কুলের পোশাক পরিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন, তার নিথর দেহ পড়ে রয়েছে হাসপাতালে। মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর ও ডাবকাই গ্রামে আজ শ্মশানের নিস্তব্ধতা।

শুক্রবার সাতসকালে গেটম্যানের ‘গাফিলতিতে’ মৃত্যু হয়েছে ৪ স্কুলপড়ুয়ার। মৃত্যু হয়েছে আরও এক সাইকেল আরোহীর। মৃত চার পড়ুয়ার নাম তামান্না পারভিন (৭), ইসানুর রহমান(৯),  জেসিকা শবনম (৮),  ফারহানা বেগিন (সাড়ে ৬ বছর)। তিন পড়ুয়ার বাড়ি গোবিন্দপুরে। আর ফারহানার বাড়ি ডাবকাই গ্রামে। ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে জামশেদ শেখ নামে বছর তিয়াত্তরের এক সাইকেল আরোহীর। তাঁর বাড়িও গোবিন্দপুরে।

জেসিকার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, পড়শিরা ভিড় করেছেন বাড়িতে। জেসিকা নেই এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তার মা। নিজের মনে বিড়বিড় করতে করতে বললেন, তাঁর হাত থেকে শেষ জল খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল জেসিকা। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মাকে বলেছিল, ‘মা মনটা কেমন করছে, একটু জল দাও না।’ সেই শেষবারের হাতে মায়ের হাতে জল খেয়ে বেরিয়ে এই দুর্ঘটনার কবলে। মৃত্যু হয় ছোট্ট জেসিকার। বলতে বলতে কান্নাই ভেঙে পড়েন জেসিকার মা।

অন্যদিনের মতোই সন্তানকে এদিনও সকালে স্কুলের পোশাক পরিয়ে দিয়েছিলেন ফারহানার মা। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বহু মানুষ ভিড় করেছেন। কেউ কাঁদছেন। কেউ অন্যকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আবার কেউ গেটম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আর ফারহানার মা রিনা বেগম ঘরে বাইরে বসে রয়েছেন। যেন মেয়ের ফেরার প্রতীক্ষা করছেন তিনি। 

আনমনে রিনা বেগম বলে চললেন, “৬টার সময় মেয়েকে গাড়িতে তুলেছিল। এক ডাকেই উঠে পড়ে। আজও উঠে পড়েছিল। আমার মেয়ে মোবাইল দেখতে পারে। ও বলেছিল, এখনও ৬টা বাজেনি। মোবাইল একটু দেখি। মোবাইল দেখছিল। ৬টা বাজতেই আমায় বলে, ৬টা বেজে গিয়েছে। আমার শাশুড়ি গিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসে।” আর কিছু বলতে পারলেন না রিনা। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। রিনার স্বামী ভিনরাজ্যে কাজ করেন। গতকাল গ্রাম থেকে গিয়েছেন তিনি। রিনার শাশুড়ি ফারহানাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছিলেন। বৌমার পাশে বসে তিনি বলেন, “আমি গিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসি। কিছুক্ষণ পর আমার অন্য ছেলে ফোন করে বলে, মা ফারহানা কোথায়? আমি বলি, স্কুলে গিয়েছে। তখন বলল, একটা লাল রঙের পুলকার অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। আমি বলি, লাল রঙের পুলকারেই তো ফারহানাকে তুলেছিলাম।” দু-হাত বাড়িয়ে ফারহানাকে খোঁজার চেষ্টা করলেন তিনি। কান্নার আওয়াজে গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারই মাঝে প্রশ্ন উঠছে, এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কে?

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us