
বেলডাঙা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ফোন পেয়েই ব্যাঙ্কে ছুটেছিলেন দাদু-দিদিমা। তারপরই বাড়িতে ঘটল ভয়ঙ্কর ঘটনা। দাদু-দিদিমার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে ঢুকে কিশোরীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। ঘটনায় শোরগোল পড়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। মৃত কিশোরীর নাম করবী দে(১৬)। কেন তাকে খুন করা হল, তা বুঝতে পারছেন না পরিবারের লোকজন।
বেলডাঙা থানার হালালপুর গ্রামে মামাবাড়িতে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকত করবী। কিশোরীর দাদু জানান, এদিন দুপুরে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, তাঁদের ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। তাড়াতাড়ি ব্যাঙ্কে আসতে বলা হয়। তা শুনেই করবীর দাদু তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ব্যাঙ্কে চলে যান। তারপর বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁরা খবর পান, বাড়িতে ঢুকে কেউ বা কারা কুপিয়ে খুন করেছে করবীকে।
ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। খবর পেয়ে আসে বেলডাঙা থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। কী কারণে খুন, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে বেলডাঙা থানার পুলিশ। খুনের কারণ বুঝতে পারছেন না করবীর পরিবারের লোকজনও। মেয়ের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন করবীর মা মাধবী দে। তিনি বলেন, “আমি বহরমপুরে এসেছিলাম। আমার বাবা-মা ব্যাঙ্কে গিয়েছিল। আমার ছেলে ফোন করেছিল। বলল, মা করবীকে কে কেটে দিয়েছে। এতদূর হয়েছে আমি বুঝতে পারিনি। আমি ভাবলাম, সামান্য কিছু হয়েছে।”
মাধবী বলেন, তাঁর মেয়ে মাধ্যমিকে ফেল করেছিল। তারপর আর পড়াশোনা করেনি। বাড়িতে থাকত। কাউকে তাঁরা সন্দেহ করছেন কি না, জানতে চাওয়ায় বললেন, “একটু আধটু ফোন করত।” কাকে ফোন করত, তা অবশ্য স্পষ্ট করতে বলতে পারলেন না তিনি। প্রেমঘটিত কারণেই এই নৃশংস খুন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। করবীর মেসো বলেন, বাড়িতে অশান্তির কোনও খবর তিনি পাননি। ফলে কেন করবীকে খুন করা হল, তাঁরা বুঝতে পারছেন না।