
বহরমপুর: বহরমপুরের গোবিন্দপুর রেলগেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্তে এবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রাজ্যের ফরেনসিক দল। শনিবার বিকেলে ফরেনসিক বিভাগের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ সি. সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে। ট্রেন-পুলকারের সংঘর্ষের পর গাড়িটি ঠিক কত দূরে ছিটকে পড়েছিল, লেজার যন্ত্রের সাহায্যে নিখুঁতভাবে সেই দূরত্ব মাপেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
এদিন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। গেটের ধরন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। রেলের আধিকারিকরা যদিও বলছেন, ওটি ‘নন-ইন্টারলকিং সি টাইপ’ গেট। প্রাইভেট নম্বরের মাধ্যমেই লাইন ক্লিয়ারেন্সের নির্দেশ আসত।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফরেনসিক দলটি আজিমগঞ্জ স্টেশনের কাছে যায়। সেখানে রাখা দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া পুলকারটিও দেখে আসেন। প্রসঙ্গত, এই দুর্ঘটনার পরপরই মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার তদন্ত হবে। দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির পরই তদন্ত প্রক্রিয়ায় এই তৎপরতা দেখা গেল।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই গোবিন্দপুর রেলগেটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ডাউন নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন সজোরে ধাক্কা মারে একটি পুলকারে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় চারজন পড়ুয়া এবং এক সাইকেল আরোহী প্রাণ হারান, গুরুতর আহত হন আরও চারজন। এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কার গাফিলতি ছিল, ফরেনসিক দলের তদন্তে এখন কী উঠে আসে সেটাই দেখার।