
নদিয়া: ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের আন্দোলনে যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তাঁদের পাশে তাঁর নামও থাকতে পারত। আদতে ওইদিন রাবার গুলি খেয়ে শহিদের তালিকায় নাম উঠে গিয়েছিল তাঁর। কিন্তু, মর্গ থেকেই আবার নতুন জীবন ফেরত পান তিনি। বর্তমানে মৃতদেহ বহন করে জীবন জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন নদিয়ার দীপক দাস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর কাছে বারবার গিয়েছেন পরিবারের সাহায্যের জন্য। পরিবর্তে চা-বিস্কুট খেয়ে বাড়ি ফেরত আসতে হয়েছে। বুকে একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে দীপক দাস বলছেন, “কর্মীদের জন্য নয়। উনি সেলিব্রিটিদের জন্য মঞ্চ করতেন।” তাই একুশের সভায় আর যান না বলে জানালেন দীপক।
সেদিন কী হয়েছিল?
নদিয়ার কল্যাণীর বাসিন্দা দীপক দাস ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সঙ্গী ছিলেন। স্মৃতির সরণি বেয়ে তিনি বলেন, চতুর্দিকে তখন টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া। ঘোড়ার পিঠে পুলিশ আসছে তেড়ে। প্রত্যেককে মারতে মারতে মাটিতে শুইয়ে ফেলা হয়। এরপর চতুর্দিক থেকে শুধু গুলির শব্দ। হঠাৎ টিয়ার গ্যাসের অংশ এসে তাঁর গায়ে লাগে। জ্ঞান হারান তিনি। মৃত মনে করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এসএসকেএম-র মর্গে। ময়নাতদন্ত করার সময় ডাক্তারবাবু বুঝতে পারেন জীবিত রয়েছেন দীপক। এরপর দেওয়া হয় হাসপাতালের বেডে। সেইসময় দীপকের বয়স ছিল একুশ বছর। ৬ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ডিসচার্জ সার্টিফিকেট এখনও সযত্নে রেখেছেন।
হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকার পর এখন তৃণমূলে জায়গা নেই তৃণমূল কর্মী দীপক দাসের। শববাহী গাড়ি চালিয়ে সংসার চলে তাঁর। কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল হাসপাতালে শববাহী গাড়ি চালান। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের কাছ থেকে কোনওদিন কোনও সাহায্য পাননি তিনি। বলেন, “ওইসময় ২ হাজার টাকা দেবে বলেছিল। কিন্তু, আমার পরিবারকে কংগ্রেস দেড় হাজার টাকা দেয়।” তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন। দীপক বলেন, “তিন-চারমাস টানা গিয়েছি। শুধু চা খেয়ে চলে আসতে হয়েছে। কোনও সাহায্য পাইনি।”
তাই বিগত কয়েক বছর ধরে একুশে জুলাইয়ের সভায় আর যান না দীপকবাবু। মমতাকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল আসল কর্মীদের গুরুত্ব দেয়নি। গুরুত্ব দিয়েছে সেলিব্রেটিদের। মঞ্চে সেলিব্রেটিদের তুলে একুশে জুলাই পালন করেছে। আজ সবাই চলে যাচ্ছে।” দীপক দাসের ছেলে শুভঙ্ক দাস বলেন, “এখানকার তৃণমূল নেতারা আমাদের বহুবার আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করাবেন। কিন্তু, কোনওদিন নিয়ে যাননি।” দীপক দাসের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের কোনও নেতা মুখ খুলতে রাজি হননি।