
নদিয়া: কালীপুজোর (Kali Puja) উদ্বোধনে গিয়ে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’-এর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যজুড়ে যত পুরনো মঠ ও মন্দির রয়েছে সেগুলি সংস্কারের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাজ্য় সরকারের তরফে। তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। কালীপুজোর উদ্বোধনে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার আরংঘাটার শতদল ক্লাবের কালীপুজো (Kali Puja) উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজো, রাস পূর্ণিমা নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, ” আমরা জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস পূর্ণিমাতেও নবদ্বীপ, শান্তিপুর, কোচবিহারকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে ঘোষণা করেছি। ইতিমধ্যে তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরেও যাব, কৃষ্ণনগরেও আসব। রাস পূর্ণিমাতে আগামী ২২ তারিখ নবদ্বীপে আসব ও রাস পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। এবং সেদিন প্রভু চৈতন্যদেবের ধামে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেব।”
এরপরই তীর্থ সার্কিটের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কী এই তীর্থ ক্ষেত্র সার্কিট? এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যত পুরনো মঠ ও মন্দির রয়েছে, তার সংস্কার করার জন্য আগামী দুই বছর এক হাজার কোটি টাকা খরচ করব। নাম দিয়েছি তীর্থ ক্ষেত্র সার্কিট। ব্যক্তিগত জায়গা ছাড়া দেবোত্তর, ট্রাস্ট, সার্বজনীন যে প্রাচীন মন্দিরগুলো রয়েছে, তাকে আমরা নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ করব। যে কাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি কেদার ধাম, বদ্রীধাম, অযোধ্যা ধাম, কাশী-বেনারস ও উজ্জ্বয়িনী মহাকালে ইতিমধ্যেই করিয়ে দেখেছেন তিনি।
পাশাপাশি, নদিয়ার হাঁসখালির প্রসঙ্গ তুলে নারী সুরক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। আরংঘাটা শতদল ক্লাবের পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বিগত সরকারের আমলে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর বিসর্জন ঘিরে অতীতের বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে তৎকালীন সরকারকেও নিশানা করেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জনে বাধা দেওয়া হত। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতেও বাধা দেওয়া হত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগে যেখানে রাজ্যে প্রায় ১৩ হাজার পুজো হত, সেখানে তা বেড়ে বর্তমানে ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে। এ বছর কোথাও পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।