
কৃষ্ণনগর: কালী বিতর্কে মহুয়ার নাম জড়াতেই তৃণমূল বলেছিল তারা কোনওভাবেই তাঁর মন্তব্যকে সমর্থন করছে না। কৃষ্ণনগর তো বটেই, ভিন রাজ্যেও মহুয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দায়ের হয়। এদিন কৃষ্ণনগর আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল মহুয়ার। কিন্তু দেখা মিলল না কৃষ্ণনগরের সাংসদের। এদিকে সাংসদের হাজিরার খবর চাউর হতেই রীতিমতো ভিড় দেখা যায় আদালত চত্ত্বরে। অনেকেরই হাতে ছিল ডিম, কলা। অনেক বিজেপি সমর্থক আবার টমেটো নিয়ে হাজির হন। বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু সাংসদকে দেখতে না পেয়ে হতাশ জনতা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে কালী বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল কানাডাবাসী ভারতীয় লীনা মণিমেকালাইয়ের তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে। পোস্টারে দেখা গিয়েছিল মা কালীর বেশে একজন দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর মুখে সিগারেট। ধূমপান করছেন। লীনার সেই পোস্টার প্রসঙ্গে তাঁর ভাবনায় কালী কেমন, তিনি কোন চোখে দেবীকে দেখেন তা বলেন মহুয়া। তাঁর স্পষ্ট কথা ছিল, “ঈশ্বরকে নিয়ে এক একজন এক একরকম মত পোষণ করেন। আমার কাছে কালী হলেন মাংসভোজী, মদ খান এমন দেবী।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়েই উঠেছিল বিতর্কের ঝড়। সুর চড়ায় বিজেপি। সেই সময় তাঁদের দাবি ছিল, এ কথা বলে আসলে হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন মহুয়া। ওঠে গ্রেফতারির দাবি।
কৃষ্ণনগরের পাশাপাশি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কলকাতাতেও। অভিযোগ হয়েছিল রাজ্যের বাইরেও। যদিও তৃণমূলের সাফ কথা ছিল, এই মন্তব্যের দায় মহুয়াকেই নিতে হবে। তারপর থেকেই চলছিল কেস। যদিও এদিন হাজিরা দিতে মহুয়া না আসায় কিছুটা হতাশ এলাকার লোকজন। এক মহিলা বলছেন, “উনি যেভাবে মা কালীকে নিয়ে করুচিকর মন্তব্য করেছিলেন তাতে আমাদের তখন থেকেই ওনার উপর ক্ষোভ রয়েছে। আজকে তার বদলা নেওয়ার দরকার আছে। ওনাকে আমরা পচা ডিম, পচা টমেটো আর পচা কলা উপহার দিতে চাই।”