
নদিয়া: রাতভর তৃণমূল নেত্রীর বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে তৃণমূল নেত্রী টিনা সাহা ভৌমিকের (Tina Saha Bhowmick) বাড়িতে। উদ্ধার হয়েছে তিন কেজি সোনা। প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকার সোনা কার টাকায় কিনলেন টিনা? প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে টিনার সঙ্গে সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও। তবে এই টিনা শিরোনামে এসেছেন আগেও। একসময় তাঁর নামে লিফলেট ছাপিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এলাকায়। বারবার বিতর্কে জড়ানো এই টিনা আসলে কে? কীভাবে উত্থান?
নদিয়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত গৌরীশঙ্কর দত্তের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ টিনার। তবে তারও আগে কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির ময়দানে হাতেখড়ি। স্বামী নিলয় সাহার হাত ধরে রাজনৈতিক জীবনে উত্থান ঘটেছিল তাঁর।
নিলয় সাহা একসময় বেতাইয়ের ডঃ বি আর আম্বেদকর কলেজের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। সেই সূত্রেই ছাত্র রাজনীতি থেকে মূল স্রোতের রাজনীতিতে প্রবেশ টিনা ভৌমিক সাহার। পরবর্তীতে টিনা দুবার মেয়াদে জেলা পরিষদের সদস্যা নির্বাচিত হন। জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর থেকেই ক্রমশ গোটা জেলায় তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। নেত্রী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি পান তিনি।
স্পষ্ট বক্তা হিসেবে পরিচিত টিনা ভৌমিক সাহা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত নেত্রী হিসেবেই জেলা রাজনীতিতে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে জেলার মহিলা নেত্রী হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর বিধানসভা বা এলাকার একটি বড় অংশ তাঁর নিজস্ব ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ বা একনিষ্ঠ অনুগামী বলেই জানা যায়।
এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও জেলার অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল ও তাঁর রাজনৈতিক পথকে মসৃণ হতে দেয়নি। এলাকার প্রয়াত বিধায়ক তাপস সাহার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একেবারেই ভালো ছিল না। পাশাপাশি, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গেও তাঁর আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। এই দুই প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে চরম বিরোধের জেরে জেলার রাজনীতিতে বেশ কিছু সময় ধরে তিনি একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।
রাজনীতির বাইরে টিনা ভৌমিক সাহা পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বাপের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি দুই পরিবারই যথেষ্ট সচ্ছল ও প্রভাবশালী বলেই এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়। তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, দামি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টিও একাধিকবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
টিনার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রয়াত নেতা তথা বিধায়ক তাপস সাহা অভিযোগ তুলেছিলেন, এই টিনা নাকি টাকার বিনিময়ে প্রাথমিকে চাকরির ব্যবস্থা করেন। এমনকী প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে টিনার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছিলেন তাপস। প্রায় বছর তিনেক আগে টিনার নামে একটি লিফলেট এলাকায় ছড়িয়েছিল, যেখানে তাঁর বিলাসবহুল জীবন, রাজারহাটে ফ্ল্যাট , কেজি কেজি গয়নার উল্লেখ ছিল। আপাতত পুলিশের নজরে রয়েছে টিনা। তাঁকে নোটিস দিয়ে তলব করা হয়েছে।