
নৈহাটি: বড়মা। ভক্তদের কাছে এই নামটাই যথেষ্ট। যা কিছু মনস্কামনা নিয়ে বড়মার কাছে যাওয়া হোক না কেন, বড়মা সবার কথা রাখেন, সবার কামনা পূরণ করেন। নৈহাটির বড়মা এতটাই জাগ্রত যে আজ গোটা রাজ্যজুড়ে তার পরিচিতি। বড়মার মন্দিরে গেলেই দেখা যেত বড় বড় করে লেখা, “ধর্ম যার যার, বড়মা সবার”। পালাবদলের পর এবার বদলে গেল এই লাইনও। কী লেখা হল বড়মার মন্দিরে?
নতুন সরকার আসতেই বদলে গেল নৈহাটির বড়মা মন্দিরের ট্যাগ লাইন। আগে লেখা ছিল “ধর্ম যার যার, বড় মা সবার”। এবার সেই ট্যাগ লাইন পালটে হল, “বড় মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি।”
মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তারা নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেননি। অনেকদিন ধরেই বহু ভক্তের কাছ থেকে ট্যাগ লাইন পাল্টানোর আবেদন আসছিল, তাদের কথা মাথায় রেখেই এবং ভক্তদের ভাবাবেগকে মর্যাদা দিতেই এই ট্যাগ লাইন পাল্টানোর সিদ্ধান্ত। এই ট্যাগ লাইন পালটানোয় খুশি ভক্তরাও। আবার কেউ কেউ বলছেন, পুরনো কথাটাই ভালো ছিল।
এক মহিলা ভক্ত বলেন, “যে বড়মার মন্দিরে এক সেকেন্ড দাঁড়ানো যেত না, সেখানে পাঁচ মিনিট ধরে পুজো দিলাম। সনাতনের শক্তি কতটা, তা জানি না। সত্যি পুজো দিয়ে মন ভরে গেল। আরও কতটা পরিবর্তন আসে, সনাতনের শক্তি কতটা পায় মানুষ, তাই-ই দেখার।”
মন্দির কমিটির সদস্য অর্ণব রায় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কমিটির কাছে অনুরোধ ছিল সমস্ত সনাতনী সংগঠনের তরফ থেকে, পাশাপাশি আমি নিজেও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নৈহাটির সদস্য, আমাদের ব্যক্তিগতভাবে ইচ্ছা ছিল যে আগের যে ট্যাগলাইন- ধর্ম যার যার, বড়মা সবার। মা সবার এই কথাটা তো সবাইকে জানানোর দরকার নেই। মায়ের যে আরাধনা করবে, মা তারই। মসজিদ-গির্জাতেও তো এরকম কথা লেখা নেই। সনাতন ধারণা জাগাতেই এই পরিবর্তন। নতুন ট্যাগলাইন-বড়মায় ভক্তি, সনাতনের শক্তি। সকলে এটাকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করবেন।”
নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নৈহাটিবাসী অনেকদিন ধরেই চেয়েছিলেন সনাতনীদের ট্যাগ লাইন থাকবে। বড়মার কমিটিতেও এই আবেদন এসেছিল। সনাতনীদের সময়, সনাতনী লেখাই হোক। এর সঙ্গে পালাবদলের সম্পর্ক নেই। এই সরকার তোষণের রাজনীতি করে না। বিগত দিনের সরকার যা করত, আমরা তা করি না। আমরা মানুষের কথায় কাজ করি। রাজনৈতিক যোগ নেই।”