
পূর্ব মেদিনীপুর: রোগা ছিপছিপে চেহারা। এখনও একেবারে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কথাবার্তায় কোনও জড়তা নেই। বয়স ৯০ পেরিয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনেও যোগ দিয়েছিলেন। অবিভক্ত পূর্ব মেদিনীপুরের সব ঐতিহাসিক ঘটনা, পট পরিবর্তনের সাক্ষী তিনি। আজ নিজেদের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরও রাজনৈতিক উত্থানের সাক্ষী তিনি। নন্দীগ্রামের উপ নির্বাচনের দিন নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের নন্দনায়কবার গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ মাইতির মুখে উঠে এল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর ভূমিকার কথা। শুভেন্দুকে একেবারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, স্বাধীনোত্তর পর্বের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথ বলেন, “শুভেন্দুবাবুর যে ধরনের স্পিরিট রয়েছে, তিনি ভালো কাজ করবেন। বামফ্রন্ট আমলে-তৃণমূল আমলে যা দেখতে পাইনি, তা এখন দেখছি।” ১৯৪০ সালে জন্ম। এই বর্ষীয়ান নাগরিক তাঁর দীর্ঘ জীবদ্দশায় মেদিনীপুরের একাধিক ডাকসাইটে রাজনীতিককে কাছ থেকে দেখেছেন। ভোটদান শেষে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসাবে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাজের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি অজয় মুখোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও ভোট দিয়েছিলাম। এখনও ভোট দিলাম। কাজের দিক থেকে দুজনেই খুব সৎ। খুবই অ্যাক্টিভ। অজয় মুখোপাধ্যায় তো ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। আর শুভেন্দুবাবু দুর্নীতির বিরুদ্ধে করছেন। এই দিক থেকে দুজনের মধ্যে মিল রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ১৯০১ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে জন্ম নেওয়া অজয় মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। মহাত্মা গান্ধীর ডাকে অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তমলুক থেকে অন্যতম নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। মেদিনীপুরের মাটি থেকে উঠে এসে রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের ছাপ ফেলা— প্রবীণ এই ভোটারের কথায় দুই আমলের দুই নেতার সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাই উঠে এসেছে।