Nepal Flash Flood Survivor Encounter: রসুয়াতেই যাচ্ছিলেন, দেখলেন নদীতে নেমে আসছে সাদা মেঘের মতো কিছু…নেপাল থেকে ফিরেও ওই দিনটা চোখে ভাসছে বসিরহাটের বৃদ্ধ দম্পতির

Nepal Flood Survivor Story: রেবা পোদ্দার বলেন, "আমরা তো অনভিজ্ঞ। বুঝতে পারছিলাম না। ড্রাইভার দেখে বুঝতে পারেন যে এটা  ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। নীচে গড়িয়ে আসলে, আমাদের হয়তো আর ফেরা হবে না। বিপদ বুঝে ট্রাভেল ম্যানেজার ড্রাইভারকে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন।"

Nepal Flash Flood Survivor Encounter: রসুয়াতেই যাচ্ছিলেন, দেখলেন নদীতে নেমে আসছে সাদা মেঘের মতো কিছু...নেপাল থেকে ফিরেও ওই দিনটা চোখে ভাসছে বসিরহাটের বৃদ্ধ দম্পতির
নেপাল থেকে সুস্থভাবে ফিরলেন বৃদ্ধ দম্পতি।Image Credit source: TV9 বাংলা

|

Aug 30, 2026 | 10:07 AM

সুমন মহাপাত্র, নূর আলম ও আব্দুল আজিজের রিপোর্ট

বসিরহাট: অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তায় কাটছিল প্রতিটা প্রহর। অবশেষে স্বস্তি। রাজ্যে ফিরলেন নেপালে আটকে পড়া বসিরহাটের বৃদ্ধ দম্পতি অনুকূল পোদ্দার এবং রেবা রায় পোদ্দার। নেপালের বিপর্যয়কে চোখের সামনে দেখেছেন তারা। ঘুরতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি। বাড়ি ফিরে এসে তাঁরা বলছেন যে প্রকৃতিকে বিরক্ত করলে, প্রকৃতি ঠিক নিজের পথ খুঁজে নেবে। আর কি কখনও নেপাল যাবেন? প্রশ্ন শুনে শুধু বললেন, “মানুষের জীবন… কিছুই বলা যায় না।”

গত ২১ অগস্ট একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে মানস সরোবর যাত্রা করেন বসিরহাটের দম্পতি। বিপর্যয়ের দিন সকালে কাঠমাণ্ডু থেকে যাত্রা শুরু করলেও, কিছুটা যাত্রা করার পরেই বিপর্যয়ের খবর পান ট্যুর ম্যানেজার।পরিস্থিতি শুনে এগোনোর পরিকল্পনা বাতিল করেন তাঁরা। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টার দূরত্ব থেকে ফিরে আসেন তাঁরা।

কী হয়েছিল সেইদিন?

রেবা পোদ্দার ওই দিনের কথা মনে করে বলেন, “ওইদিন আমরা সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ বেরোই। একটি গাড়িতে বাঙালিরা ছিল, আরেকটিতে দক্ষিণ ভারতীয়রা। ঘণ্টা দুয়েক রাস্তা যাওয়ার পর ড্রাইভার পাহাড় থেকে জল নেমে আসার একটি ছবি দেখতে পান এবং আমরাও দেখি যে সাদা ধোঁয়ার মতো কিছু একটা জিনিস নদীতে নেমে আসছে। সেটা যে ভয়ঙ্কর কিছু, তা আমরা বুঝতে পারিনি। মানুষের ছুটোছুটি দেখতে পাই। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে। এইসব দেখে বুঝতে পারি যে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটেছে। ড্রাইভার তখন গাড়ি পিছিয়ে এনে, ডানদিকের রাস্তা দিয়ে পাহাড়ের কিছুটা ওপরে নিরাপদ জায়গায় এনে রাখেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের ম্যানেজারের কাছে ফোন আসে যে ইমিগ্রেশন অফিসে যাওয়ার যে ব্রিজ, সেটা ভেঙে গিয়েছে হড়পা বানে। তখন আমাদের ম্যানেজার বললেন, যোগাযোগের আর কোনও উপায় নেই। আমরা যেতে পারব না। আমরা যখন কাঠমাণ্ডুতে ফিরে এলাম, দেখি সেখানে কোনও আঁচ পড়েনি। পরে বুঝতে পারি যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে।”

বিপর্যয় পরবর্তীতে নেপাল থেকে তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যদিও ফ্লাইটে ফেরানোর কথা বললেও, তারা ট্যুর অপারেটরের ব্যবস্থাপনায় বাকি সকলের সঙ্গে ট্রেনে ফিরে আসতেই ইচ্ছে প্রকাশ করেন। আজ, রবিবার ভোরে মিথিলা এক্সপ্রেসে চেপে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছন ওই দম্পতি। তাদের স্টেশনেই রিসিভ করেন বসিরহাট থানার আইসি সহ পুলিশের একটি টিম। তারাই সরকারি উদ্যোগে তাদের বাড়ি নিয়ে যান।

রসুলের পথেই যাচ্ছিলেন-

বাড়ি ফিরে স্বস্তি পেলেও, এখনও ওই দিনের কথা ভেবে বুকে ভয় ধরছে। অনুকূল পোদ্দার বলেন, “ওইদিন আমরা রসুয়ার দিকেই যাচ্ছিলাম। আমাদের ওখানে থাকার কথা ছিল, পরেরদিন সীমান্ত পার করে তিব্বতে যাব। কিন্তু কোনওদিন ভাবিনি এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হব। রাস্তায় কিছু দূর যাওয়ার পর, ড্রাইভারের মাধ্যমে জানতে পারলাম, সামনে হড়পা বান আসছে। হড়পা বানের কথা শুনেছি, সামনে তো দেখিনি। আমাদের একটু ভয় লাগল। কী ভয়ঙ্কর হতে পারে, জানি। দেখলাম সব দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্কুলের বাচ্চারা দৌড়ে দৌড়ে পাহাড়ের উপরে উঠে যাচ্ছে। নদী যেটুকু দেখা যাচ্ছিল, তাতে দেখে মনে হচ্ছিল নদীর মধ্যে সাদা মেঘ ভেসে আসছে।”

তাঁর স্ত্রী রেবা পোদ্দার বলেন, “আমরা তো অনভিজ্ঞ। বুঝতে পারছিলাম না। ড্রাইভার দেখে বুঝতে পারেন যে এটা  ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। নীচে গড়িয়ে আসলে, আমাদের হয়তো আর ফেরা হবে না। বিপদ বুঝে ট্রাভেল ম্যানেজার ড্রাইভারকে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন।”

গত শুক্রবার কাঠমাণ্ডু থেকে বীরগঞ্জে নেমে আসেন দম্পতি। আসার পর বসিরহাটের প্রশাসন বিমানে ফিরে আসতে বলেন। অনুকূল বাবু বলেন, “আমরা দুইজন আর পাহাড়ে ওঠার সাহস পাচ্ছিলাম না। আমাদের বলা হয়, পটনা থেকে বিমানে আসতে। কিন্তু আমরা রক্সৌল থেকে পটনা পর্যন্ত যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। গ্রুপের সঙ্গেই ফিরে আসি।”

এখন নেপালের বিপর্যয়ের ভিডিয়ো দেখে বলছেন, “ঈশ্বর আমাদের ফিরিয়ে এনেছেন। প্রকৃতিকে আমরা সাময়িক হয়তো বাঁধতে পারি, কিন্তু সারাজীবন বাঁধতে পারি না। প্রকৃতির সঙ্গে যখনই আমরা অন্যায় করি, ডিসটার্ব করি, প্রকৃতি তখন নিজেই নিজের পথ খুঁজে নেয়।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us