
মুর্শিদাবাদ: বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নেমেছিল ধস। তারপরই স্তব্ধ রেল চলাচল। দীর্ঘ লড়াই, শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর অবশেষে শনিবার আবার নিউ ফরাক্কার আপ লাইনে গড়াল ট্রেনের চাকা। সফল ট্রায়াল রান। তারপরও ঝুঁকি নিতে নারাজ রেল।
মালদহ ডিভিশনের নিউ ফরাক্কার ধসে যাওয়া রেললাইন মেরামতি শেষ হয়েছে শনিবারই। এরপর ট্রায়াল রানও করা হয়। সেই ট্রায়াল রান সফল হলেও আপ লাইনে চলল না ট্রেন। রেল দফতর জানিয়েছিল, শতাব্দী এক্সপ্রেস, যেটি হাওড়া থেকে ছেড়ে এসেছে সেটি ওই আপ লাইনে চলবে। অর্থাৎ আগে যে লাইনে চলত। কিন্তু শেষমেশ রুট পরিবর্তন করা হয়।
শতাব্দী এক্সপ্রেস বর্ধমান, রামপুরহাট, পাকুর হয়ে তিলডাঙ্গা স্টেশন থেকে এস কেবিন অর্থাৎ ওই ধস নামা আপ লাইনে দিয়ে নিউ ফারাক্কা জংশন প্রবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু সেই লাইন ডাইভার্ট করা হয় তিলডাঙ্গা থেকে বল্লালপুরে। অর্থাৎ আজিমগঞ্জ থেকে যে রুট নিউ ফারাক্কা জংশনে প্রবেশ করে।
জানা গিয়েছে, ওই আপ লাইনে এখনই ঝুঁকি নিতে নারাজ রেল। সবেমাত্র সারাই হয়েছে। আবার যদি ধস নামে? এই আশঙ্কা থেকেই ঘুরপথে চালানো হচ্ছে ট্রেন। যে ট্রেনগুলি ওই আপ লাইন দিয়ে চলার কথা ছিল, সেগুলি সবগুলিই ডাইভার্ট করা হয়েছে তিলডাঙ্গা থেকে।
গত ৩ সেপ্টেম্বরের রাতে ফরাক্কা এলাকায় অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙার মধ্যবর্তী রেলপথের বাঁধ বরাবর মাটি বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টির কারণে আপ (UP) ও ডাউন (DN) লাইনের মধ্যবর্তী বাঁধ দিয়ে জল চুঁইয়ে প্রবেশ করতে থাকে। এর পাশাপাশি আপ লাইনের পাশের একটি পুকুর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। উপরিভাগ দিয়ে জল চুঁইয়ে পড়া এবং পাশের জলাশয়ের প্রভাবে ব্যাপক মাটি ক্ষয় হয়। ফলে কাদামাটিতে ভরা জমি নরম হয়ে গিয়ে আপ লাইনের ট্র্যাক বসে যায়।
বর্ষাকালীন নজরদারির জন্য টহলদার কর্মীরা ট্র্যাকের অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করেন প্রথমে। এরপর পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর এবং জরুরি মেরামতি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল স্থগিত করে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু হয়। গতকাল মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে জানান যে কী কারণে ধস নেমেছিল, তা নিয়ে তদন্ত করা হবে।