
স্বরূপনগর: বদলের বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের মাথায় বাজ। ডিটেক্ট, ডিলিটের পর এবার ডিপোর্টের প্রস্তুতি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের থ্রি-ডি হুঙ্কারের পর ফের ভিড় স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে। আবারও বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক। বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে লাইন দিয়ে সীমান্তে বসে শয়ে শয়ে বাংলাদেশি। ক্যামেরা দেখে কথা বলতে চাইলেন না, কেউ আবার বুম সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন।
এক মহিলা তো অকপটে বললেন তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু যাচ্ছেন কেন? প্রশ্ন করতেই রীতিমতো ঝাঁঝিয়ে উঠলেন। বেশ খানিকটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বললেন, “আমি এখানেই মায়ের পেট থেকে জন্মেছি।” পরক্ষণেই আবার বললেন, “আপনারা জানেন না কেন চলে যাচ্ছি!” দীর্ঘদিন এখানে যে ভোট দিয়েছেন তাও বললেন অকপটে। তাঁর সাফ কথা, “ভোটার কার্ড হওয়ার পর যতবার ভোট হয়েছে ততবারই ভোট দিয়েছি।”
পাশেই আর বৃদ্ধ তো আবার টাকা দিয়ে কাঁটাতার পারের গল্পই বলে বসলেন। অকপটেই বললেন, “দালালদের হাত ধরেই এ পাড়ে এসেছিলেন। কত টাকা দিতে হয়েছিল? বৃদ্ধের উত্তর, ২ হাজার টাকা নিয়েছিল। এখানে আমাদের কোনও নথি নেই। অনেক টাকা চাইছিল নথি করতে, দিতে পারিনি। তবে যে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম সেখানে কোনও নথি লাগেনি।”
এই গল্প যে শুধু ওই বাংলাদেশি বৃদ্ধ বা মহিলার তা নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই গল্প আরও শয়ে শয়ে বাংলাদেশির। অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কার্যত জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বাংলার বিজেপি সরকার। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলছেন, “এদের তো ফুল-বেলপাতা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। আপনি বলুন না আপনার দেশে বাংলাদেশি কেন থাকবে? বাংলাদেশে কি আপনাকে রাখবে?”