Barasat:’আমার সাত বছরের বাচ্চাটার কোনও অপরাধ নেই, দয়া করে আমার স্ত্রীকে বাজে কথা বলবেন না স্যর’, ‘আদ্যোপান্ত এক সংসারী’ মুণ্ড কাটায় অভিযুক্ত জলিলের কথায় মন ভিজবে!

Barasat: জানা যাচ্ছে, নিহত হজরতের সঙ্গে জলিলের স্ত্রীর সুফিয়ার একটা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতাও ছিল। জলিল সে বিষয়টা জানতেন। তবুও তিনি নাকি মেনেই নিয়েছিলেন। পরে স্ত্রীর সঙ্গে হজরতের সম্পর্কের অবনতি হয়।

Barasat:আমার সাত বছরের বাচ্চাটার কোনও অপরাধ নেই, দয়া করে আমার স্ত্রীকে বাজে কথা বলবেন না স্যর, আদ্যোপান্ত এক সংসারী মুণ্ড কাটায় অভিযুক্ত জলিলের কথায় মন ভিজবে!
কাটা মুণ্ডর ঘটনায় অভিযুক্তImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Feb 18, 2025 | 1:03 PM

বারাসত: হজরতের মুণ্ড কেন কেটেছিলেন জলিল?  মঙ্গলবার গাইঘাটার সেই জায়গা, যেখান থেকে হজরতের ক্ষতবিক্ষত দগ্ধ দেহটা উদ্ধার হয়েছিল, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এদিন সবটা বললেন জলিল। জম্মু থেকে তাঁকে গ্রেফতারির পর পুলিশের হাতে মূলত উঠে এসেছিল, চুরির ৪০০ গ্রাম সোনা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কোন্দলের জেরে খুন। কিন্তু তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই একটা বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন, এই খুনের যে বিভৎসতা, এর কারণ আরও অনেক ভয়ানক। তা না হলে কেন যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হবে? তারপরই বেরিয়ে আসে আসল সত্যিটা। জলিলের মুখে ভয়ঙ্কর সত্যিটা। এর পিছনে রয়েছে বউয়ের প্রতি অপার ভালবাসার এক গল্পও।
যেখান থেকে হজরতের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার অদূরে দাঁড়িয়েই জলিল  বলেন, “এদিক থেকে হেঁটে আসছিলাম, সুফিয়া আগে ছিল স্যর, পিছনে হজরত ছিল। তারপর আমি ছিলাম। আমার কাছে একটা দাঁ ছিল, সুফিয়ার কাছে একটা হাতুড়ি ছিল। আমিই দিয়েছিলাম। ও হেঁটে যেতে যেতেই দাঁ দিয়ে পিছন থেকে ঘাড়ে মারতে থাকি স্যর। মারার পরই কাঁত হয়ে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পর আবারও মারতে থাকি। তারপর যখন হাফ মার্ডার হয়ে যায়, তখন ওকে আমি টেনে এদিকে নিয়ে আসি। সুফিয়া একবারই মেরেছিল। দাঁ দিয়ে আমি গলায় মারি আবার। এরপর এক কোপেই বডি থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে যায়। তারপর পুরুষাঙ্গটা আমি কুপিয়ে দিই।”

জানা যাচ্ছে, নিহত হজরতের সঙ্গে জলিলের স্ত্রীর সুফিয়ার একটা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতাও ছিল। জলিল সে বিষয়টা জানতেন। তবুও তিনি নাকি মেনেই নিয়েছিলেন। পরে স্ত্রীর সঙ্গে হজরতের সম্পর্কের অবনতি হয়। তার কারণও হজরতের অস্বাভাবিক যৌন চাহিদা। জানা গিয়েছে, হজরত নাকি ওষুধ খেয়ে এসে জলিলের স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন। তা পছন্দ ছিল না সুফিয়ার। সেই বিষয়টা জানিয়েছিলেন জলিলকে। জলিল হজরতকে বারণও করেছিলেন। কিন্তু সেই বারণ শোনেননি হজরত। সুফিয়ার সঙ্গে জোর করেই সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকেন।

কথা বলতে বলতেই জলিলের গলা ধরে আসে। তিনি বলেন, “আমার মনে এটা অনেকদিন ধরেই ইচ্ছা ছিল স্যর, অনেক রাগ ছিল। আমার যে পরিমাণ ক্ষতি করছে, আমার ছোট একটা বাচ্চা রয়েছে, সাত বছর বয়স, সে তো কোনও অপরাধ করেনি। আমি করেছি, সুফিয়া করেছে। বডিটায় এখানে আগুন জ্বালিয়ে মুণ্ডটা এখান থেকে নিয়ে চলে গিয়েছি।”

সাংবাদিকরা তখন প্রশ্ন করতে থাকেন, কেন এত রাগ ছিল হজরতের ওপর? তখনই হাতজোড় করে জলিল বলতে থাকেন, “দয়া করে আমার বউ সম্পর্কে কোনও বাজে কথা বলবেন না। পায়ে পড়ি আমি। আমার বউ সম্পর্কে কোনও বাজে মন্তব্য করবেন না।”

এদিকে, সুফিয়া জানান, তিনিই  ওড়নার মধ্যে হাতুড়ি নিয়ে এসেছিলেন। হজরত তাঁর পিছনে ছিল। তিনি জানান,  মারার পর জলিল তাঁকে দাঁ, হাতুড়ি আর মদের বোতলটা দিয়েছিলেন। তাঁকে বলেছিলেন, “তুমি চলে যাও, আমি আসছি।” মোবাইলের সিম খুলে সিম পুঁতে দেন সুফিয়া। হাতুড়ি ছুড়ে ফেলেছিলেন ঘন জঙ্গলে। এদিন সেই সব জায়গায়ই দেখিয়ে দেন সুফিয়া ও জলিল।

Follow Us