
তপ্ত সন্দেশখালিতে পৌঁছে গিয়েছে ফ্যাক্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। সন্দেশখালির পাত্র পাড়া, মাঝের পাড়া, নস্কর পাড়া ও নতুন পাড়া এলাকায় যাওয়ার কথা ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল। পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি নরসিমা রেড্ডি সহ মোট ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল ও রাজ্যের বেশ কয়েকজন আইনজীবী সন্দেশখালি এলাকায় যাবেন বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। তাঁরা সেখানে গিয়ে কথা বলবেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। যে সকল জমিহারারা বারবার অভিযোগ করেছেন তাঁদের সঙ্গেও কথা বলবেন তাঁরা। এ দিকে, রাজ্য পুলিশও প্রস্তুত টিমকে আটকাতে। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে সন্দেশখালি ঢুকতে বাধা পেয়েছে বিরোধী দলগুলি। গতকাল আটকে দেওয়া হয় বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। আজও সেই একই ছবি ধরা পড়ল।
এক ক্ষুব্ধ মহিলা বললেন, “পুলিশ প্রশাসন যাকে পাব তাঁকে শাঁখা-শাড়ি পরাবো। ওরা মা বোনদের ইজ্জত রাখে না। মন্ত্রী তো বলেছেন, “কোনও অশান্তি নেই। এগুলো কী?”
গ্রেফতার কেন্দ্রীয় দলের পাঁচ সদস্য়। CRPC ১৫১ ধারার কেস দিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করল পুলিশ। সন্দেশখালি গেলে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটাতে পারে এই বিষয়ে গ্রেফতার। তবে একজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তিনি বাসন্তীর দিকে আগেই চোখে ধুলো দিয়ে চলে গিয়েছেন।
কেন্দ্রের মহিলাদের আটক করার জন্য় গাড়িতে তুলছিল পুলিশ। সেই সময় বাধা হয় সিআরপিএফ-এর মহিলা জওয়ান। তাঁরা গিয়ে বাধা দেয়। চলে কার্যত ধস্তাধস্তি।
আইনজীবী ও NCW সদস্য চারু আলি খান্না জানান বলেন, “আমরা বললাম দুজন যাব। বাংলার পুলিশ দুই মহিলাকে ভয় পাচ্ছে? কীসের ভয় পাচ্ছে ওরা? আমি কী করব ওইখানে গিয়ে। আমি তো ফিরব না। “
ডিসি সৈকত ঘোষ প্রতিনিধি দলকে বলেন,”স্যর আপনাকে আটক করব? আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে আপনাদের অনুরোধ করছি ফিরে যাওয়ার জন্য।” পাল্টা প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, “ওইখানে ১৪৪ ধারা জারি। এখানে তো ১৪৪ ধারা নেই। যেতে দিচ্ছেন না। আমাদের বারণ আছে।”
সন্দেশখালি যাওয়ার পথে ভোজেরহাটেই কেন্দ্রের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমকে আটকে দিল পুলিশ। ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সেই যুক্তি দেখিয়ে জারি করা হয় পুলিশের তরফে। ডিসি সৈকত ঘোষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের সদস্যদের অনুরোধ করে জানান, এই মুহূর্তে সন্দেশখালির যা পরিস্থিতি তাতে সেখানে এখন যাওয়া সম্ভব নয়। আইন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু টিমের সদস্যরা জানাচ্ছেন, তাঁরা দু’জন যাবেন সেখানে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমকে আটকানোর জন্য প্রস্তুত রাজ্য পুলিশ। ভোজেরহাটে ইস্ট ডিভিশনের ডিসি আরএস বিলাল ও ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি সৈকত ঘোষের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী উপস্থিত।