
উত্তর ২৪ পরগনা: কিশোরকে ক্লাবে ডেকে যৌনাঙ্গে সাঁড়াশির চাপ। শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ। আড়িয়াদহের গ্যাঙস্টার জয়ন্ত সিং- গ্যাংয়ের এর নারকীয় অত্যাচারের আরও এক ভিডিয়ো প্রকাশ্যে। আড়িয়াদহ ক্লাবের মধ্যেই চলে সেই নারকীয় অত্যাচার। জয়ন্তর শাকরেদ লাল্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি। (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি TV9 বাংলা) তাতে আরও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
জানা গিয়েছে ঘটনাটি মাস তিনেক আগের। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মাটিতে পড়ে রয়েছে ওই কিশোর। হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। সামনে চেয়ারে বসে প্রসেন দাস ওরফে লাল্টু। সাঁড়াশি দিয়ে ওই কিশোরের যৌনাঙ্গ চেপে ধরে রেখেছেন এক হাত দিয়ে। আরেক হাত দিয়ে মোবাইলে কথা বলছেন। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই কেঁপে উঠেছে গোটা বাংলা। আড়িয়াদহের ক্লাবের মধ্যেই যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা শুনেই শিহরিত হয়ে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আড়িয়াদহে মা-ছেলেকে পিটিয়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে জয়ন্ত সিংয়ের গ্যাঙ। এরপর বিজেপির তরফ থেকে একের পর এক ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, এক যুবককে মাটিতে ফেলে হকিস্টিক, উইকেট দিয়ে পেটাচ্ছেন জয়ন্ত সিংয়ের দলবল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাহুল গুপ্তা, শিবম গুপ্তা, সুমন, জঙ্গা, অভিষেক বর্মন। উল্লেখ্য, আড়িয়াদহে মা ও ছেলেকে পেটানোর অভিযোগেও তাঁদের নাম রয়েছে এফআইআর-এ । দ্বিতীয় আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে বাপ্পা নামে এক তৃণমূল কর্মীকে বন্দুক শেখানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন জয়ন্ত সিং।
কিশোরের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে শূলে চড়াবে মানুষ। মানুষের ধৈর্য্যের সীমা নিয়ে খেলছে।” এই নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন খোদ বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, “এই যে ধরে পেটাচ্ছে, পুলিশ জানে না, তেমনটা নয়। যারা পেটাচ্ছে তারা ফ্যাক্টর নয়। ফ্যাক্টর হচ্ছে ঠিকাদার। পুলিশ সব জানে। পুলিশ কি আজকে এই ভিডিয়ো পেল?” তাহলে বিধায়ক ঠিকাদার বলতে কাকে বোঝাতে চাইলেন? উল্লেখ্য, জয়ন্ত সিং-এর কীর্তি যখন প্রথম প্রকাশ্যে আসে, তাঁর রাজনৈতিক ছত্রছায়া নিয়েও বিধায়ক-সাংসদের মধ্যে কম তরজা হয়নি। জয়ন্তর গ্রেফতারিতে দেরি নিয়েও পুলিশের ভূমিকা ও রাজনৈতিক যোগ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এবার মদন মিত্র বললেন, ‘এসবের পিছনে রয়েছে ঠিকাদার।’ কে সেই ‘ঠিকাদার’?