
শাসন: একটা সময় ছিল, যখন শাসন ও আশপাশের চত্বরে শেষ কথা বলতেন মজিদ মাস্টারই। বাম জমানার দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। কিন্তু এখন জমানা বদলেছে। মজিদ মাস্টারও এখন সক্রিয় রাজনীতি থেকে বহু ক্রোশ দূরে। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে এখনও সমানভাবে চর্চিত তিনি। কারও কাছে পূজিত, কারও কাছে সমালোচিত। মজিদ মাস্টার রাজনীতি ছাড়লেও, রাজনীতি কি তাঁকে ছাড়তে পেরেছে? সম্ভবত নয়। কারণ, বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারের শেষ পর্বে মজিদ মাস্টারকে বাড়িতে গেলেন তৃণমূলের জেলা পরিষদের প্রার্থী সাবিনা খাতুন। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন। আশীর্বাদ চাইলেন। মাস্টারমশাইও তাঁকে মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করলেন। মজিদ মাস্টারের আশীর্বাদ পেয়ে খুশি তৃণমূল প্রার্থীও।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ৩৯ নম্বর আসনে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন সাবিনা খাতুন। বছর পঁচিশের গৃহবধূ। পঞ্চায়েত ভোটের শেষ লগ্নের প্রচার বেরিয়েছিলেন তিনি শাসনে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করছিলেন। তৃণমূলকে যাতে মানুষ ভোট দেয়, সেই অনুরোধ করছিলেন। সেই সময়ে একসময়ের দাপুটে সিপিএম নেতা মজিদ মাস্টারের বাড়িতে যান তিনি। পঞ্চায়েতের আসরে যাতে ভাল ফল হয়, সেই আশীর্বাদ চান মজিদ মাস্টারের কাছে। যদিও এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলেই জানাচ্ছেন মজিদ মাস্টার। তাঁর ব্যাখ্যা, তিনি এককালে মার্ক্সবাদী রাজনীতি করেছেন। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে রাজনীতির বাইরে। তাছাড়া, রাজনীতির পরিচয়ের বাইরেও তিনি একজন শিক্ষক। ৪০ বছর শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত।
আর তৃণমূল প্রার্থী যখন তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন, তখন তাঁর সেই শিক্ষকসুলভ মানসিকতা থেকেই তিনি আশীর্বাদ করেছেন। বছর পঁচিশের ওই তৃণমূল প্রার্থী যে তাঁর ছাত্রীসম, সে কথাও বললেন মজিদ মাস্টার। বলছেন, ‘যখনও কোনও ছেলে বা মেয়ে আমার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, আমি তাকে নিজের ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে মনে করি। একজন ছাত্রী হিসেবে যদি কেউ শিক্ষকের কাছে আশীর্বাদ চায়, আমার কর্তব্য তাকে আশীর্বাদ করা।’ এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলেই দাবি মজিদ মাস্টারের।
তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা খাতুনও বলছেন, ‘উনি এককালে বিরোধী পার্টি করতেন। কিন্তু এখন তো আর করেন না। এখন তাঁর বয়স হয়েছে। সেই কারণেই ওনার কাছে আশীর্বাদ চাইতে গিয়েছি। বলেছি যাতে ভোট আমাকে দেন। উনিও আমাকে মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন। বলেছেন, আমি ভাল ভোটেই জিতব। উনি তো একজন মাস্টারমশাই। সবাইকেই আশীর্বাদ করতে পারেন।’