
আসানসোল: যিনি রাঁধেন, তিনি চুলও বাঁধেন। এটাই যেন প্রমাণ করে চলেছেন তিনি। বাংলায় নতুন সরকারের মন্ত্রী। একাধিক দফতরের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। সেই সব দায়িত্ব সামলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে যান। দলের কর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক গানে যেমন নাচ করতে পারেন। তেমনই দরাজ কণ্ঠে গেয়ে উঠতে পারেন রবীন্দ্রসংগীত। রবিবার আসানসোলে একেবারে অন্য মেজাজে দেখা গেল অগ্নিমিত্রা পালকে। আসানসোলের ঘরে মেয়ে ভাসলেন ছোটবেলার স্মৃতিতে। গাইলেন ‘পুরানো সেই দিনের কথা’।
কয়েকদিন আগে রানিগঞ্জের বাঁশরায় এক বিজয় মিছিলে যোগ দিয়ে হুডখোলা গাড়ির উপর অগ্নিমিত্রার নাচ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। মিছিলে সাউন্ডবক্সে রাজনৈতিক গান বাজতেই নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মন্ত্রী। সেই গানের তালেই মেতে ওঠেন নাচে, যা নিয়ে নেটপাড়ায় শোরগোল পড়ে। সেইসময় স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দেন, মন্ত্রী হয়েছেন বলে কি তাঁর নাচ করার অধিকারটুকুও নেই? তাঁর সাফ কথা ছিল, তিনি নাচও করবেন, গানও গাইবেন, আবার মন দিয়ে নিজের কাজটাও করবেন। এবং সবসময় মানুষের মাঝেই থাকবেন।
নিজের সেই কথারই প্রতিফলন যেন দেখা গেল আসানসোল রবীন্দ্রভবনের বাংলা সংস্কৃতি উৎসবে। বিশিষ্ট চিকিৎসক অশোক রায়ের মেয়ে অগ্নিমিত্রা নিজের শহরে পা রাখতেই ভেসে গেলেন নস্টালজিয়ায়। ছোটবেলায় বাবার স্কুটারে ঘুরে বেড়ানো থেকে শুরু করে শীতকালের যাত্রা— সব স্মৃতি রোমন্থন করে সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে উঠলেন রবীন্দ্রসংগীত ‘পুরানো সেই দিনের কথা’।
কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
অনুষ্ঠানের পর স্বভাবসিদ্ধ হাসিতে সাংবাদিকদের বলেন, “বাঙালি মেয়ে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারব না? বেসুরো হয়েছে হয়তো কিন্তু বাঙালি মেয়ে গান গাইবে না, নাচ করবে না, রাবীন্দ্রিক নৃত্য করতে পারবে না, আঁকতে পারবে না, এটা তো হতে পারে না। ছোটবেলা থেকে আমরা এসব শিখে বড় হয়েছি। তাই যতই মন্ত্রী হই, সংস্কৃতির শিকড় মজবুত হলে, সবকিছু ঠিক থাকবে।”
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, রানিগঞ্জের বিজয় মিছিলের সেই নাচ থেকে আসানসোলের মঞ্চে রবি-ঠাকুরের গান— অগ্নিমিত্রা প্রমাণ করলেন, তিনি তাঁর নিজস্ব মেজাজেই বাঁচতে ভালোবাসেন।