Ex-TMC MLA Narendranath Chakraborty: প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথের গোডাউন ভরা সরকারি ত্রাণে, গেস্ট হাউসের ড্রয়ার ভর্তি কন্ডোমে

Narendranath Chakraborty Relief Material Controversy: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাড়ি ও গোডাউন ঘিরে বিক্ষোভে সামিল হন শতাধিক মানুষ। তাঁরা ঢুকে পড়েন গোডাউনে। সেখানেই দেখতে পান ত্রিপল-সহ বিভিন্ন জিনিস, যা আমজনতার পাওয়ার কথা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Ex-TMC MLA Narendranath Chakraborty: প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথের গোডাউন ভরা সরকারি ত্রাণে, গেস্ট হাউসের ড্রয়ার ভর্তি কন্ডোমে
কী বলছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী? Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jun 05, 2026 | 5:41 PM

পাণ্ডবেশ্বর: রাজ্যে পালাবদলের পর দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের ‘কীর্তি’ সামনে আসছে। কয়েকদিন আগে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া লাখ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছে। এবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর গোডাউন থেকে উদ্ধার হল সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। আবার ওই গোডাউনের পাশের একটি গেস্ট হাউস থেকে উদ্ধার হল ড্রয়ার ভর্তি কন্ডোম। ওই গেস্ট হাউসটি ইসিএলের। তবে প্রাক্তন তৃণমূল এই বিধায়কের দখলেই তা থাকত বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য। এই নিয়ে শোরগোল পড়তেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক ছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের তরফে টিকিট পেয়েছিলেন তিনি। তবে বিজেপির জিতেন্দ্র তিওয়ারির কাছে হেরে যান। রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবি হতেই তাঁর বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি সামগ্রী বিতরণ না করে দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি ব্যক্তিগত অফিস ঘরের গোডাউনে মজুত করে রেখেছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

শুক্রবার সেই ক্ষোভ ব্যাপক আকার নেয়। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাড়ি ও গোডাউন ঘিরে বিক্ষোভে সামিল হন শতাধিক মানুষ। তাঁরা ঢুকে পড়েন গোডাউনে। সেখানেই দেখতে পান ত্রিপল-সহ বিভিন্ন জিনিস, যা আমজনতার পাওয়ার কথা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

দেখা যায় বিধায়কের গোডাউনের পাশেই গেস্ট হাউজের ভিতরে সুসজ্জিত দুটো ঘর। দুটিতেই রয়েছে বিছানা, তোশক, বালিশ। একটি ঘরের ড্রয়ার খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ। তাতে ভর্তি কন্ডোমের প্যাকেট। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই চরমে উঠেছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ গোডাউনটি সিল করে দেয়। দিন কয়েক আগে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে তৃণমূলের নেতার দখলে থাকা বেডরুমে মিলেছিল কন্ডোম। তা নিয়ে চর্চার মধ্যেই শুক্রবার নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দখলে থাকা গেস্ট হাউসে বিছানা, বালিশ, কন্ডোম পাওয়া গেল।

স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের বিধায়ক এসব করে আসছিলেন। মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা জুলি খাতুন, রুকসনা খাতুনরা অভিযোগ করেন, তাঁরা দিনের পর দিন সরকারি ত্রাণের জন্য হাপিত্যেশ করেছেন। এদিকে, প্রাক্তন বিধায়কের গোডাউন ভরে গিয়েছে সরকারি ত্রাণে। স্থানীয় বিজেপি নেতা সুমন্ত মণ্ডল আইন অনুযায়ী প্রাক্তন বিধায়কের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কী বলছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী?

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “পাণ্ডবেশ্বর এলাকার মানুষকে এত বোকা ভাবেন? এখানকার মানুষ আমাকে চেনেন না? মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছি। মানুষকে সাহায্য করি। সেখানে কিছু নোংরা জিনিস ভরে দিয়ে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। ছি! এত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মানুষের জীবনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। মানুষই এর জবাব দেবে। জেলে দাও। ফাঁসি দিও। কেন চরিত্রহননের চেষ্টা। কীসের ভয়? আমি পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের উপর বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম।” প্রাক্তন বিধায়ক সাফাই দিলেও তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখোপাধ্যায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।

Follow Us