
পশ্চিম মেদিনীপুর: স্কুলের সামনে হাতে হোর্ডিং নিয়ে বসে রয়েছেন অভিভাবকেরা। হোর্ডিং-এ লেখা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ। অভিভাবকদের দাবি, প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হোক। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের একটি স্কুলে সামনে এমনই দৃশ্য দেখা গেল সোমবার সকালে। অভিভাকদের অভিযোগ, স্কুলে ম্যানেজমেন্ট কমিটির কোনও গুরুত্ব নেই। প্রধান শিক্ষক নিদের ইচ্ছা মতো টাকা খরচ করেন। কাজ না করেই সরকারি টাকা নয়ছয় করেন। শুধুমাত্র অভিভাবকেরা নয়, প্রধান শিক্ষকের সহকর্মী তথা স্কুলের শিক্ষকদের মুখেও শোনা যাচ্ছে অভিযোগ। মিড ডে মিলের টাকা নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে প্রধান শিক্ষক এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৩ সাল থেকে দুর্নীতি করে আসছেন তিনি। প্রায় ২৬টি জায়গায় সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানিয়েও হয়নি কোনও সুরাহা। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। স্কুলের এডুকেশন বিভাগের শিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত বেরা বলেন, ‘অভিভাবকরা যে দাবি নিয়ে এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তা সঠিক।’
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক যথাযথ ভাষা ব্যবহার করেন না।
ওই শিক্ষকের দাবি, বিভিন্ন সরকারি অনুদানের টাকা নিয়ে নয়ছয় করেন প্রধান শিক্ষক। আগে তৈরি হওয়া বাথরুম দেখিয়ে নতুন করে গ্র্যান্ডের টাকা নিচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, ৫০০ থেকে ৬০০ জনের নামে মিড ডে মিলের টাকা আসছে, অথচ খাচ্ছে ৫০-৬০ জন। তাঁর কথায়, দুর্নীতির শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন শিক্ষক।
এই প্রসঙ্গে অভিযোগ উড়িয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘বছর কয়েক ধরে এভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, কয়েকজন স্কুলের জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন অবৈধভাবে। এই ইস্যুতে আদালতে গিয়েছেন তিনি। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি প্রধান শিক্ষকের।