
দাসপুর: অন্নপূর্ণার টাকায় দুর্গার আগমন! ৫০ মহিলার হাত ধরে আনন্দগড়ে শুরু নতুন ইতিহাস। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর-১ ব্লকের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের আনন্দগড় গ্রামে এতদিন দুর্গাপুজো মানে ছিল অন্য গ্রামের দিকে তাকিয়ে থাকা।
নিজেদের গ্রামে হবে দুর্গোৎসব—এ যেন ছিল অনেক দূরের স্বপ্ন। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের গল্পটা লিখতে চলেছেন গ্রামের ৫০ জন মহিলা।
এই গ্রামে নেই দীর্ঘদিনের দুর্গাপুজোর রেওয়াজ। নেই বনেদি পরিবারের পুজো, নেই পুরনো কোনও পুজো কমিটির ইতিহাস। কিন্তু আছে একদল মহিলার ইচ্ছে, আর কিছু করে দেখানোর জেদ। গ্রামের বেশিরভাগ মহিলাই নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন। আর সেই এক মাসের ৩ হাজার টাকা থেকেই একটু একটু করে তৈরি হচ্ছে এক বড় স্বপ্ন। দেবী দুর্গারই আর এক নাম অন্নপূর্ণা।
তাই অন্নপূর্ণার দেওয়া টাকায় এবার তাঁদের ঘরে আসছেন দুর্গা—ভাবনাটাই যেন অন্যরকম। একজনের টাকা নয়। একটি পরিবারের টাকা নয়। ৫০ জন মহিলার অন্নপূর্ণার টাকা এক জায়গায় করে এবার তৈরি হচ্ছে গ্রামের প্রথম দুর্গোৎসব।
ইতিমধ্যেই একাধিকবার একসঙ্গে বসে মিটিং করেছেন মহিলারা। কে কী দায়িত্ব নেবেন, কীভাবে পুজো হবে, কীভাবে গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নেওয়া হবে—সবকিছু নিয়েই চলছে পরিকল্পনা। ধরা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকার বাজেট।
আর সবচেয়ে বড় কথা, এই পুজোয় শুধু মহিলাদের উদ্যোগই নয়—গ্রামের মহিলারাই মহিলাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ শ্রম দিয়ে, কেউ সময় দিয়ে এগিয়ে আসছেন।
আজ শুক্রবার, জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে সেই স্বপ্নের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। গ্রামের মহিলাদের হাতেই সম্পন্ন হল দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো। খুঁটি পোঁতা হল মাটিতে। কিন্তু আসলে আজ পোঁতা হল একটা নতুন ভাবনার বীজ। বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়ার পর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোয় সেই টাকা ব্যবহার করে আনন্দে মেতে উঠেছেন ওঁরা। ওঁদের প্রত্যেকের সংসারেই টান রয়েছে। তাঁদের হাতখরচের জন্যই সরকার ভাবে। তবুও সেই টাকা দিয়েই সবটা শ্রম দিয়ে পুজোটা তাঁরা করছেন।”