
পশ্চিম মেদিনীপুর: স্ত্রীর নামে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড করাবেন। এদিকে স্ত্রী বাপের বাড়ি। প্রয়োজন KYC-র। সেই কারণে স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন শ্রীনাথ। আর সেখানে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন। জানা গেল ব্রেন স্ট্রোক! দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের মাথায় বাজ ভেঙে পড়ল। আর এখানেই আয়ুষ্মান কার্ডের কামাল। হাসি ফুটল আদিবাসী পরিবারের মুখে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলডাঙ্গা আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা।
আদিবাসী পাড়ার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা শ্রীনাথ সরেন। গত ১৯ অগস্ট তিনি ক্ষীরপাই থেকে আরামবাগে শ্বশুরবাড়িতে যান স্ত্রীকে আনতে। কারণ, আয়ুষ্মান কার্ডের KYC-র করার জন্য স্ত্রীর উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। ২০ অগস্ট শ্বশুরবাড়িতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রীনাথ। তড়িঘড়ি তাঁকে আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরপর হাসপাতালের বেডে শুয়ে নাকে অক্সিজেনের নল নিয়েই তাঁর KYC সম্পন্ন করা হয় স্থানীয় যুবক কার্তিক সরেনের উদ্যোগে ।
বিষয়টি নজরে আনা হয় স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত দোলই ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের। তাঁদের তৎপরতায় দ্রুত আয়ুষ্মান কার্ড অনুমোদন করানো হয়। ২২ অগস্ট আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমেই একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর সফল অস্ত্রোপচার হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে বিছানায় শুয়ে বিশ্রামে রয়েছেন শ্রীনাথ।
আয়ুষ্মান কার্ডে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে পরিবার। এবিষয়ে বিধায়ক সুকান্ত দোলই আগামী দিনেও এই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
শ্রীনাথের স্ত্রী বলেন, “খুবই গরিব আমরা। আমাদের পরিবারে এরকম হয়… আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। বিজেপি নেতা ও এলাকার বিধায়কের সহায়তায় সঙ্গে সঙ্গে KYC আপডেট হয়ে অপারেশনটা হয়ে গেল। এটাই আমাদের কাছে অনেক। আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।”