
ঘাটাল: সাইকেলে ব্যাগের পর ব্যাগ। সাইকেল নিয়ে রীতিমতো দৌড়চ্ছে তারা। বয়স এখনও কারও আঠারো হয়নি। সেই কিশোররা সাইকেলে কী নিয়ে যাচ্ছে? জবাব নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হতেই সাইকেল ফেলে পালাল তারা। তারপর ব্যাগ খুলে দেখতেই চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ব্যাগে করে চোলাই পাচার হচ্ছিল। অভিযোগ, এক মহিলা ওই কিশোরদের দিয়ে চোলাই পাচার করাচ্ছিলেন। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের।
চোলাই পাচারের সেই ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ঘাটালের ঝুমি নদীর পাড়ে মনসুকা ঘোড়ই ঘাট পার হচ্ছিল একদল কিশোর। অভিযোগ, ওই ব্যাগগুলিতেই ছিল চোলাই মদ। গন্তব্য পাশের জেলা হুগলি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আড়াল থেকে এক মহিলা গোটা কারবার পরিচালনা করছেন। এবং দীর্ঘদিন ধরেই মনসুকার দীর্ঘ এলাকার কিছু অংশ থেকে নদীর বাঁধ ধরে এভাবেই চোলাই পাচার চলছে।
চারটি সাইকেলে বিপুল পরিমাণ চোলাই নিয়ে হুগলির কুলটে যাওয়ার সময় বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। তখনই সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায় আরোহীরা। ঘটনাস্থলে থাকা এক মহিলাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মহিলা কয়েকজন অল্পবয়সী ছেলেকে ব্যবহার করে এই কারবার চালাচ্ছেন।
কী বলছেন মহিলা?
ওই মহিলাকে ঘিরে ধরলে প্রথমে মুখ খুলতে চাননি। তারপর চোলাই পাচারের কথা স্বীকার করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাইকেল পিছু ২০০ টাকা করে দেওয়া হয়। চোলাই পাচার অন্যায় বলে স্বীকার করে নেন তিনি। তারপরও পাচার করেন কেন? তাঁর দাবি, পেটের টানেই করছেন।
পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আবগারি দফতর। উদ্ধার হওয়া প্রায় ৫০০ লিটার চোলাই মদ নষ্ট করা হয় এবং পাচারে ব্যবহৃত সাইকেলগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। দিনের আলোয় নদীর বাঁধ ধরে এমন পাচারের অভিযোগে প্রশ্ন উঠছে, নাবালকদের ব্যবহার করে যদি দিনের পর দিন এই কারবার চলে, তাহলে এর নেপথ্যে আসল মাথারা কারা? শুধু বাহকদের ধরলেই কি বন্ধ হবে পাচার? পুরো বিষয়টি আবগারি দফতর খতিয়ে দেখছে।