
বর্ধমান: জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ। কিন্তু সেই কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই একের পর এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমান। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক চারটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দু’জন।
মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ বর্ধমান-কালনা রোডের কল্যাণপুর মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি মারুতি ওমনি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শ্যামল দাস (৩২)-এর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি কালনা রোডের কপিবাগান এলাকায়। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন সৌরভ পণ্ডিত নামে আরও এক ব্যক্তি। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি হাটগোবিন্দপুর এলাকায়।
সকাল ৯টা নাগাদ রায়না থানার খালেরপুল এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়এছেন ১০৩ বছরের প্রবীণ সাইকেল আরোহী উজির আলি খাঁ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের দিক থেকে আসা একটি লরির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে লরির পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান এবং কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রায়না থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের করঞ্জি মোড় এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারের পিছনে আরেকটি ডাম্পার সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর জখম হন চালক ও খালাসি। তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক খালাসি শেখ নাসিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চালক শেখ সিজারুল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত শেখ নাসিরুলের বাড়ি বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া থানার মাঠপলশা গ্রামে।
সোমবার সন্ধ্যায় ভাতার থানার বড়া চৌমাথা এলাকায় যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে একটি টোটোকে ধাক্কা মারে একটি ডাম্পার। গুরুতর আহত হন টোটোচালক মোরশেলেম শেখ (৬১)। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি গুসকরার খাদিমপাড়া এলাকায়।
একদিনে পরপর চারটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে জেলার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুর্ঘটনাগুলির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। একই সঙ্গে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালীন এমন একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।