
বর্ধমান: পুলিশ ও প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে এবারে তোলাবাজির জাল পাতা হল খোদ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের সাহেবগঞ্জ ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের। সেখানে তৃণমূল প্রধান প্রদ্যুৎ কুমার পালকে হুমকি দিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কার্যত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
জানা গিয়েছে, নিজেকে ভাতার থানার ‘মেজবাবু’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি প্রধান প্রদ্যুৎ কুমার পালকে ফোন করেন। ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে SP অফিসে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই কারণে তাঁর উপর গ্রেফতারির প্রবল চাপ রয়েছে। সেই গ্রেফতারি এড়াতে এবং মামলা থেকে রেহাই দিতে প্রথমে ৬ লক্ষ ও পরে ধাপে ধাপে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।
শুধু তাই নয়, অবিলম্বে কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইন মারফত টাকা পাঠানোর জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ওই ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফার নামও ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, শুধু বিধায়ক নয়, বিজেপি দলের নাম করেও চাপ দেওয়া হতে থাকে। চলতে থাকে দর কষাকষিও।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রধান তাৎক্ষণিকভাবে ভাতার থানার ওসি এবং স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চক্রান্ত বুঝতে পেরে প্রধান সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তির নম্বরটি ব্লক করে দেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে।
প্রধান জানান, “ওই ফোনকল থেকে আমায় জানানো হয় গ্রেফতারের চাপ রয়েছে। আমার তো একটা সম্মান রয়েছে। তাই রফাসূত্র হিসেবে টাকা দিতে হবে।” এই ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। তিনি জানান, “আমার এবং SP-র নাম করে টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রধান থানায় জানিয়েছেন। আমি নিজেও পুলিশের সাথে কথা বলেছি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নামে কোনও অফিসার নেই। অন্য জেলা থেকে এই ফোন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “যেই আমার বা দলের নাম করে টাকা চাইবে, এক টাকাও দেবেন না। এই ধরনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তৃণমূল কংগ্রেসের দেবু টুডু জানান, এভাবেই গোটা রাজ্য জুড়ে হুমকি দিয়ে টাকা চাওয়া হচ্ছে।