
পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের নেড়োদিঘীতে বিজেপি অফিসে যুবকের রহস্যমৃত্যু। সফিক শেখ নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য এলাকায়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ পরিবারের। নেপথ্যে জমি বিবাদের যোগও রয়েছে বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। সফিক বিজেপি করতো, বলছেন তার পরিজনরা। যদিও সফিককে তাঁদের কর্মী বলে মানতে নারাজ বিজেপি। এমনকী ওই এলাকায় তাঁদের তাঁদের কোনও পার্টি অফিস নেই বলে দাবি পদ্ম শিবিরের।
মৃতের বাবা ইদ্রিশ শেখ বলছেন, প্রায় ছ’মাস আগে সফিকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল সমর্থকের মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বিরোধ চলছিল। তিনি বলছেন, “আমরা ৬ মাস আগে মার খাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলকে আর সমর্থন করি না। তারপর থেকে বিজেপিতেই আছি। আমার ছেলেও রোজ পার্টি অফিসে চলে আসতো। ও খুব ভালো ছিল। মনে হচ্ছে ওকে মেরে টাঙিয়ে দিয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, একটি জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বিজেপির বর্ধমান উত্তর বিধানসভার প্রার্থী তথা ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় দাস বলছেন, “যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। যে কোনও মৃত্যুই বেদনাদায়ক। তবে নেড়োদিঘী এলাকায় বিজেপির কোনও পার্টি অফিস ছিল বলে আমার জানা নেই। ওখানে বিজেপির কোনও কার্যকর্তা ছিল বলেও আমার জানা নেই। কারণ ওখানে বিজেপি ৩ থেকে ৪ টি ভোট পেয়েছে। আমি এই এলাকায় ভোটের প্রচারে পর্যন্ত যেতে পারিনি।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই এলাকার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সফিক সেখের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি খুন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এলাকার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তেরও জন্যও পাঠানো হয়েছে।