
বর্ধমান: রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদন পত্র জমা দেওয়ার নাম করে প্রেমিকের হাত ধরে চম্পট দিল পাত্রী। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ঘটনায় তুমুল হইচই। বিয়ের সব কিছু যখন ঠিক হয়ে গিয়েছে। সেই সময় বাড়ির মেয়ের এহেন কাণ্ডে মাথায় হাত পরিবারের।
জানা গিয়েছে, বর্ধমানের ভাতারের বাসিন্দা পাপিয়া ঘোষ। দিন কয়েক পরই তাঁর বিয়ে। সেই মতো বিয়ের আয়োজন চলছিল। আত্মীয় স্বজনদের নিমন্ত্রণের জন্য বিয়ের কার্ডও ছাপানো হয়ে গিয়েছে। শুধু কী তাই, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণও করা হয়ে গিয়েছে। বিয়ের বাজার থেকে প্যান্ডেল,বাজনা সবই ‘রেডি’। বাড়িতে যখন মেয়ের বিয়ে নিয়ে আনন্দ চরমে। সেই সময় পাপিয়ার কাণ্ডে কী করবেন বুঝে উঠে পারছেন না পরিবারের লোকজন।
পরিবার সূত্রে খবর, বিয়ের অনুষ্ঠানে সরকারি সহায়তার জন্য ‘রূপশ্রী প্রকল্পের’ অনুদানের আবেদন করতে ‘পাত্রী’ তাঁর মামাকে সঙ্গে নিয়ে বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে ২৫ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া যায়। তবে রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদন করতে হলে পাত্রীর অন্যান্য নথিপত্রের সঙ্গে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের একটি প্রতিলিপি প্রমাণ হিসাবে দিতে হয়। আবেদন করার সময় আবেদনকারীকেও সশরীরে হাজির থাকতে হয় বিডিও অফিসে। সেইমতো এদিন পাত্রীর মামা তাঁর ভাগ্নিকে নিয়ে ভাতার বিডিও অফিসে আবেদন করতে যান। পরিবারের দাবি, ঠিক তখনই মামাকে নিজের ভ্যানিটি ব্যাগ ধরতে বলে পালিয়ে যান পাত্রী।
এরপর নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরা চারিদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। জানা গিয়েছে, ভাতারের সাহেবগঞ্জ এলাকার লাইব্রেরি পাড়ায় বাড়ি বছর বাইশের ওই তরুণীর। তিনি সম্প্রতি গুসকরা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেছেন। তাঁর মামার বাড়ি মাহাচাঁদা অঞ্চলের খুরুল গ্রামে। এলাকাসূত্রে জানা গিয়েছে, মামার বাড়ি এলাকার যুবক চঞ্চল মল্লিকের সঙ্গে পাপিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। চঞ্চলের মামার বাড়ি সাহেবগঞ্জের লাইব্রেরি পাড়ায়। সেই সূত্রে চঞ্চল সাহেবগঞ্জে থেকে পড়াশুনা করত। সেই থেকে চঞ্চলের সঙ্গে আলাপ পাপিয়ার। আলাপ থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বর্তমানে চঞ্চল আমানুর ১ অঞ্চলের শুনুর গ্রামে থাকেন। সেখানেই চঞ্চলের নিজের বাড়ি।
এ দিকে, মেয়ের চলে যাওয়ার ঘটনায় ভাতার থানায় যান নিখোঁজ তরুণীর বাবা, মামা সহ আত্মীয়রা। তাঁদের পাশে নিয়ে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন। কিন্তু তরণীর কোনও হদিশ করা যায়নি। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে ভাতার থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
পরে খোঁজখবর নিয়ে পরিবার জানতে পারে, পাপিয়া ও চঞ্চলের প্রেমের সম্পর্কের কথা। সেই মতো পাপিয়াকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের লোকজন গিয়ে পৌঁছায় শুনুর গ্রামে। সেখানে গিয়ে পাপিয়া ও চঞ্চলের দেখাও পান পরিবার। তবে পাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে বেঁকে বসে তিনি। পরিবারকে নাকি সোজা উত্তর দিয়ে পাপিয়া জানিয়েছেন তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে হবে। এই নিয়ে টিভি ৯ বাংলা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাঁরা প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।