
পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে কংগ্রেসের দলীয় সাংগঠনিক সভাকে কেন্দ্র করে মারাত্মক গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে। শনিবার কর্মসূচিকে ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যে বচসা, ঠেলাঠেলি থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিল ও শামিয়ানা ভাঙচুর- পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
ঘটনার সূত্রপাত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শরৎ রাউতের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভা নিয়ে। পুরসার দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের পৌঁছতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ দানা বাঁধে। গলসি বাজারের একটি পৃথক অনুষ্ঠান ভবনেও গলসি ১ ও ২ নম্বর ব্লক নেতৃত্বের তরফ থেকে আলাদা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। দুই পক্ষের তর্কাতর্কি মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। জেলা কংগ্রেস নেতা শেখ হিলালউদ্দিন আহম্মদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনা ঘিরে পরস্পরকে তীব্র আক্রমণ করেছে দুই গোষ্ঠী। গলসি-১ ব্লক সভাপতি শেখ শামসুল হকের অভিযোগ, অভিজিৎ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বাইরে থেকে লোক এনে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝামেলা বাঁধানো হয়েছে। এর পেছনে অধীর চৌধুরীর অনুগামীদের হাত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, গলসি-২ নম্বর ব্লক সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান পুরো ঘটনার জন্য জেলা সভাপতির ‘অনুপ্রেরণা’কে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা ঘোষণা করেন।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শরৎ রাউত। তাঁর দাবি, “কংগ্রেস একটি বড় পরিবার, মতানৈক্য হতেই পারে। তবে কোনও বড় সংঘর্ষ হয়নি, মূলত বসার জায়গা নিয়েই সামান্য গোলমাল হয়েছিল।”