
বর্ধমান : রাতারাতি কারও পেশা বদলে যেতে পারে? তাও আবার টেকনিশিয়ন থেকে সোজা ডাক্তার! অবাক হচ্ছেন? এখানেই শেষ নয়, যে হাত দিয়ে দীর্ঘদিন টাইপের কাজ করে এসেছেন, সেই হাত দু’টোই একের পর এক অস্ত্রোপচার করে চলেছে। অথচ ওরা কেউ ডাক্তারি পরীক্ষায় (Fake Doctor) পাশই করেননি। যার খেসারত দিতে হয়েছে বহু মানুষকে। রাজ্যজুড়ে এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। ইতিমধ্যে পাঁচ জন ভুয়ো চিকিৎসকের হদিসও পাওয়া গিয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম।
চিকিৎসক সংগঠনের দাবি, বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে এমবিবিএস সার্টিফিকেট বের করে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন ওই পাঁচ ভুয়ো চিকিৎসক। এমনকী, তাঁদের মধ্য়ে তিনজন সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। ওই তিন অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ করে চিকিৎসার লাইসেন্স নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। আর বাকি দু’জন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা করছেন বলে অভিযোগ।বিষয়টি সামনে আসতেই চিকিৎসক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় ২৫-২৬টি নার্সিংহোমে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করতেন। অন্য একজন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে একটি নার্সিংহোম চালানোর পাশাপাশি কলকাতার উপকণ্ঠ নিউ টাউনে একটি ডার্মা ক্লিনিকও চালান বলে অভিযোগ। একই ব্যক্তি কীভাবে গাইনি এবং ডার্মাটোলজি দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসা করেন,তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
সংগঠনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, ” অ্যাসোসিয়েশনের তরফে যখন আমরা জেলা ভিজিটগুলো করছিলাম, আমাদের কাছে প্রচুর অভিযোগ আসছিল যে বেশ কিছু ওটি টেকনিশয়ন এমবিবিএস সার্টিফিকেট নিয়ে নিয়েছে। সার্টিফিকেট নিয়ে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছে, অস্ত্রোপচার করছে। আমার কাছে অনেকগুলো অভিযোগ এসছিল। দু’জনকে নিয়ে খোঁজখবর নিই। আমি বিহার মেডিক্যাল কলেজে ফোন করি, তারা জানায় এই নামের কেউ ছিল না। বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলে চিঠিও লিখি। সেখানেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় দু’জনের নামে কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। এরা ভুয়ো।”
রাজীব পাণ্ডে আরও জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ভুল চিকিৎসা হচ্ছে, মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। ভুয়ো চিকিৎসকের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট কেড়ে নেওয়া হোক। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছি। আমি যা দুই দিনে জানতে পেরেছি বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে, তা গত সাত-আট বছরে জানতে পারেনি? তার মানে কোনও ত্রুটি ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব এই কাউন্সিলের মাথায় যাঁরা বসে রয়েছে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হোক।”
অভিযোগ, সবটাই ঘটেছে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ তৃণমূলের আমলে। তাই নতুন সরকারের কাছে সংগঠনের আবেদন, যেন এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।