
কালনা: উচ্চ মাধ্যমিকে (Higher Secondary) পড়ার স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে ভর্তি হয়েছিল শতাধিক ছাত্রী। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়েই মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল। সংশ্লিষ্ট পোর্টালে জানিয়ে দেওয়া হয়, স্কুলটি কো-এড নয়। ফলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে গিয়েছে। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসতে গিয়েই এই বিপত্তি তৈরি হয়েছে। উদ্বেগে অভিভাবকরা, হতবাক শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকের বৈদ্যপুর বিদ্যাপীঠের ঘটনা। ১৯৭৬ সালের স্কুল এটি। বরাবরই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এলাকার ছাত্রীরা ভর্তি হয়, উচ্চমাধ্যমিকের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তারা। শিক্ষা দফতরের তরফে তাদের অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়, পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে বিগত বছরগুলিতে।
কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ১২০ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষা দফতরের পোর্টালে এই স্কুলে ছাত্রী ভর্তির কোনও অনুমোদনই নেই। ফলে একসঙ্গে বাতিল হয়ে যায় সমস্ত রেজিস্ট্রেশন। অথচ গত শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া একাদশ শ্ৰেণির ছাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়নি। এবছর তারা ওই স্কুল থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, “আমার মাও এই স্কুল থেকে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়েছে, আমাদের সঙ্গে এমনটা হবে ভাবিনি।”
রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, কোনওদিনই এই স্কুলে কো-এডের সরকারি অনুমোদন ছিল না। অথচ প্রায় ৫০ বছর ধরে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নিয়মিত ছাত্রী ভর্তি হয়েছে এবং তারা পরীক্ষাও দিয়েছে। তাহলে এতদিন কীভাবে এই প্রক্রিয়া চলল? উঠেছে সেই প্রশ্ন। গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
এদিকে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ফলে অন্য কোনও স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগও প্রায় নেই বলেই মনে করছেন অভিভাবকরা। এক বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই ছাত্রী ও তাদের পরিবারের।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, বিষয়টি জানার পর জেলা শিক্ষা দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে যোগাযোগ করা হয়েছে। চলতি বছরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের স্বার্থে কো-এডের অনুমোদন দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এই প্রসঙ্গে মহকুমা শিক্ষা আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি শিক্ষা দফতর দেখবে।
বিষয়টিতে হতবাক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “১৯৭৬ থেকে এই স্কুল কো-এড ছিল। ২০২৬-এ জানতে পারলাম বয়েজ হয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনও ইনটিমেশন ছিল না। এখনও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে ২৩০ জন ছাত্রী, তাদেরও কোনও অসুবিধা হয়নি। সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ১২০ জনের ভবিষ্যৎ যেন কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়। সরকারের কাছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।”