Burdwan Sand Price: সস্তায় বালি বিক্রিতে বড় উদ্যোগ প্রশাসনের, দেওয়া হল ঠিকানা-ফোন নম্বর

Sand Price: গত তিন মাসে বালির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, ছিল তিন মাস আগেও এক ট্রাক্টর বালির দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার টাকা। পরে তা বেড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে বাড়ি তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণকাজের খরচও বেড়ে যায়।

Burdwan Sand Price: সস্তায় বালি বিক্রিতে বড় উদ্যোগ প্রশাসনের, দেওয়া হল ঠিকানা-ফোন নম্বর
ফাইল ছবিImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Aug 10, 2026 | 7:20 PM

ভাতার: বালির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ করল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। সোমবার জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালের নেতৃত্বে বালির দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয় জেলাশাসকের দফতরে। বৈঠকে জেলার বিধায়ক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক এবং বালি খাদানের ইজারাদাররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বালির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা।

ভাতাড়ের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা জানিয়েছেন, জেলায় ৬১টি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। বর্তমানে বর্ষার মরসুমে সমস্ত বালি খাদান বা ঘাট বন্ধ রয়েছে। তবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইজারাদারদের কাছে প্রায় ৩ কোটি সিএফটি বালি মজুত রয়েছে বলে জেলাশাসকের তরফে বৈঠকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেই মজুত করা বালি সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কাজের ঠিকাদাররা কিনতে পারবেন।

বিধায়ক সৌমেন কার্ফা আরও জানান, চালান এবং লোডিং-সহ ১০০ সিএফটি বালির দাম ৫২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে পরিবহন খরচ আলাদা দিতে হবে। অন্যদিকে, আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তারা ১০০ সিএফটি বালি ১২০০ টাকা দরে কিনতে পারবেন। এই ক্ষেত্রেও পরিবহন খরচ আলাদা থাকবে।

আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই নির্ধারিত দর কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বর্ষার মরসুম শেষ হয়ে ফের বালি খাদান চালু হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং বালির দামও কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা।

এদিকে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য জেলার কোথায় কোথায় বালি মজুত রয়েছে, সেই পয়েন্টগুলির তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকায় মজুত থাকা বালির জায়গার ঠিকানা এবং যোগাযোগের নম্বরও দেওয়া থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি নির্ধারিত দামে বালি সংগ্রহ করতে পারবেন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

বালির খুচরো দাম নিয়ে অবশ্য প্রশাসনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না বলে জানিয়েছেন সৌমেন কার্ফা। তাঁর কথায়, ‘‘খুচরো বালি কে কত দরে বিক্রি করবেন, সেই বিষয়টি তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।’’ তবে বৈঠকে নির্ধারিত দামের বেশি দামে বালি বিক্রি হলে ইজারাদারদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বিধায়ক বলেন, “নির্ধারিত দর না মানলে পুলিশ গিয়ে কাউকে আটক করবে না, ইজারাদাররাই বিষয়টি আটকে দেবেন।”

গত তিন মাসে বালির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, ছিল তিন মাস আগেও এক ট্রাক্টর বালির দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার টাকা। পরে তা বেড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে বাড়ি তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণকাজের খরচও বেড়ে যায়।

বালি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বর্ষার কারণে নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। প্রতি বছরই বর্ষার সময়ে সরকারি নিয়মে বালি তোলা বন্ধ থাকে। চলতি বছরও জুলাইয়ের ১০ তারিখ থেকে প্রায় ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত খাদান বন্ধ রয়েছে। তাঁদের আশা, ১৫ নভেম্বরের পর ফের বালি তোলা শুরু হলে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারদরও কমে যাবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us