
মঙ্গলকোট: বসে গিয়েছে ব্রিজের একদিক। হেলে পড়েছে একদিকের কাঠামো। দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। খসে পড়ছে কংক্রিটের চাঙড়। বেরিয়ে এসেছে রড। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে ব্রিজের উপর দিয়ে বাস, লরি-সহ ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দিল প্রশাসন। আর তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন, ব্রিজের বেহাল দশা সম্পর্কে আগেই জানা সত্ত্বেও এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন? কাটোয়া-বর্ধমান সড়কে মঙ্গলকোটের নিগনে ব্রহ্মাণী নদীর উপর অবস্থিত এই ব্রিজ। স্থানীয়দের কাছে যা নিগন ব্রিজ নামেই পরিচিত।
২০০১ সালে রাজ্যের পূর্ত দফতরের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল ব্রিজটি। অভিযোগ, তারপর থেকে কোনও রক্ষণাবেক্ষণই হয়নি। প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই ব্রিজের স্বাস্থ্য ভাঙতে শুরু করলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টে অবাধে চলেছে ভারী যানবাহন।
মাস দুয়েক আগে ব্রিজে বড় ফাটল দেখা দেয়। তখনই ব্রিজটিকে দুর্বল বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ভারী যান চলাচল বন্ধের কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে ব্রিজের একদিক বসে যায় এবং কাঠামো হেলে পড়ে। ব্রিজের নীচ থেকে খসে পড়তে থাকে কংক্রিটের চাঙড়। পরিস্থিতির অবনতি হতেই তড়িঘড়ি প্রশাসনের তরফে ব্রিজের উপর দিয়ে বাস, লরি-সহ সমস্ত ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক দিক ঘিরে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে।
কী বলছেন সাধারণ মানুষ?
নিষেধাজ্ঞার জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে কাটোয়া-বর্ধমান রুটের একাংশে বাস পরিষেবা। ঘুরপথে বাস চলাচল করায় সময় ও ভাড়া—দুটোই বেড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। সবুজ মাইতি, মির্মল মাঝি, আবু বক্কররা বলেন, এই ব্রিজে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় খুব অসুবিধা হচ্ছে। অনেকটা ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। টোটো-অটোতে ব্রিজ পেরতেও ভয় লাগছে বলে তাঁরা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজের বেহাল অবস্থা চোখে পড়ছিল। তা সত্ত্বেও কেন সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল না, সেই প্রশ্নই এখন উঠতে শুরু করেছে। সামনেই বর্ষা। দ্রুত সংস্কার না হলে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না এলাকার বাসিন্দারা। তবে ব্রিজ সংস্কার নিয়ে আশ্বস্ত করে প্রশাসনিক মহলে খবর, চার মাসের মধ্যেই সংস্কার করা হবে নিগন ব্রিজ।