
কাটোয়া: সেই বাম আমলে কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল জমি। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল শিল্প হবে। এরপর দুই সরকার বদল। এখন বিজেপি এসেছে বাংলার মসনদে। আর তারপরই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে শিল্প হবে বলে আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রর। আর এই ঘোষণার পর থেকেই আশার আলো দেখছেন জমিদাতারা ও এলাকার মানুষ। শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ হওয়ার সঙ্গে এলাকায় বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য। বদলে যাবে এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র। বহু বছরের অপেক্ষার পর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জমিদাতারাও। যদিও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি NTPC-র কোনও আধিকারিকের।
সালটা ২০০৬। বাম আমলের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন কাটোয়ায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিল্যানাস করেন। প্রথমে পিডিসিএল চাষিদের থেকে ৫৫৬ একর জমি কিনে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর তা হস্তান্তর হয় NTPC কাছে। পরে রাজ্য সরকার আরো ১০০ একর জমি দিয়েছিল সংস্থাকে।
যদিও প্রথম থেকেই শ্রীখন্ড,দেবকুন্ডু,কশিগ্রামের চাষিরা জমি দিতে বেঁকে বসেছিলেন। একর প্রতি ভাল দাম আর পরিবার পিছু একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস পেয়ে জমি দিতে রাজি হয়। এরপর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ৬৬০ মেঘাওয়াট করে ২টি প্রকল্প আজও গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে উঁচু পাঁচিলে ঘেরা লোহার গেটে তালা বন্ধ অবস্থায় কয়েকশো একর ফসলি জমি পড়ে রয়েছে ভিতরে।
দীর্ঘদিন ধরে অধিগ্রহণ করে থাকা জমিকে ঘিরে স্থানীয়দের হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে মন্ত্রীর ঘোষণার পর নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীদের একাংশ নতুন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শিল্প গড়ার উদ্যোগ ইতিবাচক পদক্ষেপ। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,”আমাদের আশা, এই প্রকল্প হলে আমাদের এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।” তবে স্থানীয়দের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধু ঘোষণা নয়, দ্রুত যেন শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু হয়।