
খন্ডঘোষ: কোথাও পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হচ্ছে ত্রিপল, কোথাও জলের তলায় মিলছে বন্দুক। এবার আর কোনও সাধারণ নেতা বা কাউন্সিলরের নয়, খোদ বিধায়কের কার্যালয় থেকে মিলল কন্ডোমের প্যাকেট। মিলল সাদা থান। পথ অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখালেন পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষে।
শনিবার দুপুরে বিধায়ক কার্যালয়ে আছড়ে পড়ল জনতার ক্ষোভ। পাওয়া গেল সাদা থান, কন্ডোমের প্যাকেট আর ত্রিপল সহ ত্রাণসামগ্রীও। খন্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীন বাগের কার্যালয় আর বাসভবন ঘিরে বিক্ষোভ চলল বিজেপি কর্মীদের। বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবিতে ওঠে সেই বিক্ষোভ থেকে।
বিজেপি কর্মীদের দাবি, বিধায়কের কার্যালয় এবং সংলগ্ন গুদাম থেকে সাদা থান কাপড়, কিছু কন্ডোমের প্যাকেট এবং আমফানের সময়কার ত্রিপল সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারী বিজেপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়ক নবীন বাগকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং ত্রিপল বিধায়ক নিজের গুদামে অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছিলেন। এছাড়া, কার্যালয় সাদা থান দেখে উদ্ধার বিজেপির মহিলা মোর্চা ও যুব মোর্চার প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, নির্বাচনে বিজেপি কর্মীদের হত্যা করে তাঁদের পরিবারকে এই কাফন উপহার দেওয়ার এক ভয়ানক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছিল।
পাশাপাশি, বিধায়কের কার্যালয় থেকে কিছু কন্ডোমের প্যাকেট পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। ঘটনাস্থলে খণ্ডঘোষ পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা পৌঁছন। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতেই উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলো পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়।
বিজেপি নেতা কৃষ্ণকান্ত হালদারের দাবি, এলাকায় ত্রাসের পাশাপাশি নানা কুকীর্তি রয়েছে বিধায়কের। তিনি বলেন, “উনি আর এক শাহজাহান। ওঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হোক।” বিজেপি নেতা আনন্দ সাঁতরার অভিযোগ, কার্যালয়ে সাদা থান রাখা ছিল বিজেপি কর্মীদের জন্য। ভোটে জিতলে খুনের হুমকি দেওয়াহত। বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবি জানান তাঁরা। বিধায়ক প্রকাশ্য়ে আসেননি, তাঁর কোনও বক্তব্যও জানা যায়নি।