
বর্ধমান: সাইবার অপরাধীদের নিশানায় এবার রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে অভিযোগ। হ্যাক হওয়ার পর তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী নিজেই। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট এবং ভিডিয়োবার্তা দিয়ে সকলকে সতর্ক করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর নম্বর থেকে কেউ যদি টাকা, আর্থিক সাহায্য বা কিউআর কোড পাঠানোর অনুরোধ করে, তাহলে যেন কেউ তাতে সাড়া না দেন। কোনও অবস্থাতেই টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ভিডিয়োবার্তা কী বলেছেন মন্ত্রী?
ভিডিয়োবার্তায় মন্ত্রী বলেন, “আমার নম্বরটি (উল্লেখ করে) হ্যাক হয়েছে। কেউ এই নম্বরে টাকা পাঠাবেন না, কিউআর কোডও পাঠাবেন না। যে আমার ফোন হ্যাক করেছে, তার নাম অভিষেক কুমার। ওই নম্বর থেকেই এই প্রতারণা করা হয়েছে।” মন্ত্রী জানান, হ্যাক হওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিচিতদের কাছে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করে মেসেজ পাঠানো শুরু হয়। কারও কাছে ৪৫ হাজার, কারও কাছে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়।
অভিযোগ, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর কাছেও ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আবার বর্ধমান শহরের খালাসিপাড়ার বাসিন্দা ও মন্ত্রীর পরিচিত শেখ সোহরাবের কাছ থেকে প্রথমে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বর্ধমান শহরের কালনাগেট এলাকার খাঁপুকুরে মন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছায় বর্ধমান থানার সাইবার সেলের পুলিশ। ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাইবার থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন, তাঁর নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কোনও আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ এলে তা যাচাই না করে যেন কোনওভাবেই টাকা পাঠানো না হয়। পাশাপাশি এই সতর্কবার্তাটি যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল সাইবার প্রতারকদের নতুন কৌশল। বিশিষ্ট ব্যক্তি কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা যে ক্রমশ বাড়ছে, সেই আশঙ্কাই আরও একবার সামনে এল।