
নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম (Nandigram) জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ আবু তাহের (Abu Taher)। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে রয়েছেন। ৪ মে-র পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যখন মমতাকে ছেড়ে গিয়েছেন আস্থাভাজনরা,তিনি কিন্তু থেকে গিয়েছেন দলের একনিষ্ঠ নেতা-কর্মী হিসেবে। তবে, দল তাঁর পাশে থাকেনি। এমনই অভিযোগ তুলে আবারও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল নেতা। একইসঙ্গে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম ইস্যুতে মমতাকেই দায়ী করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন আবু তাহের।
আবু তাহেরের দাবি, নন্দীগ্রামকে ভুলে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেতা বলেন, “আমি ইতিপূর্বে অনেকসময় বলে আসছি, এখানে বিরোধী বলে কিছু চোখে পড়ছে না। আমি সেটা অকপটেই স্বীকার করি। ৪ মে -র পর ঝড়ের গতিতে যদি একটা অঞ্চলের প্রধান-উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য, জেলা পরিষদীয় সভাধিপতি…সবাই যদি ইস্তফা দিয়ে চলে যান বিরোধী শূন্য তো হবেই। জেতা প্রার্থী হয়ে যদি পালিয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ থাকে কতক্ষণ।” মমতাকে নিশানা করে বলেন, “চার তারিখের পর পার্টি অফিস দখল হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের ব্লক থেকে অঞ্চল পর্যন্ত সমস্ত কমিটি নেত্রী নিজেই ভেঙে দিয়েছে। তাহলে দায়িত্বটা কার উপরে আছে। কে দায়িত্ব নেবে। সেটা কি আমাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বুঝতে পারেনি যে এখানে উপনির্বাচন হবে। উপনির্বাচন হলে সেখানে একটা ব্লক হবে, একটা অঞ্চল হতে পারে, সেখানে একটা সভাপতির প্রয়োজন। সবদিক থেকেই শূন্য।”
আবু তাহেরের অভিযোগ,কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মমতা। কিন্তু দলের কোনও কর্মী গ্রেফতার হলেও কোনও পদক্ষেপ করেননি। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা বলেন, ” মিলন প্রধান গ্রেফতার হয়েছেন, সেটা আইনি ব্যাপার। নিশ্চয় তাঁর নামে পুরনো মামলা ছিল।… মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার জন্য আমাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাদি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলছেন কেন গ্রেফতার করা হল। নন্দীগ্রামের মানুষ তো আন্দোলন করেছিল, নন্দীগ্রামের মানুষ তো গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, নন্দীগ্রামের মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিল। নন্দীগ্রামের মানুষ যন্ত্রণায় ভুগছেন। তার সঙ্গে আমিও। তো সেখানে ভোট পরবর্তী সময়ে আমাদের জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শামসুর ইসলাম, প্রাক্তন সভাপতি নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের বাপ্পাদিত্য গর্গ, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তাঁরা যখন গ্রেফতার হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা কৈফিয়ত তো চাননি। তিনি নন্দীগ্রামকে ভুলেই গিয়েছেন।”
খারাপ সময়ে কোনও দিনও দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন আবু তাহের। বলেন, “২০২১ ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। সেখানে আমি ফেরার ছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করি। জামিন পাই। তারপরেও কোর্টের নির্দেশে আমাকে প্রায় ১৪ মাস জেলার বাইরে থাকতে হয়েছিল। এদিক-ওদিক করে তিন বছর এলাকার বাইরে থাকতে হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে দাঁড়াননি।”