
দিঘা: বর্ষার এলেও সেভাবে ইলিশের দেখা মিলছিল না দিঘায় (Digha Hilsha)। অবশেষে খরা কাটিয়ে মুখে হাসি ফুটল মৎস্যজীবীদের। বর্ষার মরসুমের শুরুতে সেভাবে বাঙালির পাতে পড়েনি দিঘার ইলিশ। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, প্রকৃতির বিরূপ মনোভাব ও সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে খুব একটা ইলিশ পাওয়া যায়নি। তবে, রবিবার অন্য ছবি ধরা পড়ল দিঘা মোহনায়। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে টন টন ইলিশ (Hilsha in Digha Mohana Market) ঢুকল বাজারে।
দিঘায় কেন পাওয়া যাচ্ছিল না ইলিশ? ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে সমস্যা হচ্ছিল। সমুদ্র উত্তাল ছিল। ফলে মৎস্য শিকারে সমস্যা হচ্ছিল। সমুদ্রে যেতেও নিষেধ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে একটি ট্রলার-সহ ১৫ জন নিখোঁজ হয়ে যায়। তবে, সব বিপদ কাটিয়ে টানা ক’দিনের বৃষ্টিতে এবার চওড়া হাসি ফুটল দিঘার মৎস্য ব্যবসায়ীদের মুখে।
জানা গিয়েছে, প্রত্যেক ট্রলারে প্রায় ২ টনের কাছাকাছি ইলিশ উঠেছে। ছোট, মাঝারি, বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৫-৪০ টন ইলিশ উঠেছে দিঘার মোহনায়। প্রায় ৪০০ গ্রাম থেকে ১২০০,১৩০০ গ্রাম পর্যন্ত ইলিশের দেখা মিলছে। পাইকারি বাজারে এই ইলিশের দাম গড়ে প্রায় ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ ও ১২০০ টাকা পর্যন্ত গিয়েছে।
দিঘা ফিস অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নবকুমার পইড়া বলেন, “ব্যান পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর যখন আমরা প্রথম সমুদ্রে গেলাম, তখন ইলিশ সেভাবে ছিল না বললেই চলে। তারপর মাঝে প্রায় ২৫-৩০টন ইলিশ উঠেছিল। কিন্তু মাঝে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। সেইসঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না মৎস্যজীবীরা। আজ যেসব ট্রলার এসেছে দিঘা মোহনায়, প্রায় ৩০ টনের বেশি ইলি উঠেছে। এক কেজি ৯০০ গ্রাম ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। আবার ৬০০, ৭০০ ও ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। তার নীচে ৫০০, ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকায়।” এক ট্রলার মালিক জানাচ্ছেন, আগামী দিনে আমদানি বাড়তে পারে। আমদানি বাড়লে দাম আরও কমবে।