
কাঁথি ও বীরভূম: এবার বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নাম জড়াল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। টুলুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল সুমিতের বিরুদ্ধে। বীরভূম ছাড়িয়ে পূর্ব মেদিনীপুরেও আতঙ্কের সাম্রাজ্য ছড়িয়েছিলেন পাথর সম্রাট টুলু। এগরার ঠিকাদার শেখ মুক্তাজুলের অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরেও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাজের বরাত ছিনিয়ে নিতেন টুলু।
টুলুর ‘কীর্তি’ প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার ঠিকাদার মুক্তাজুল। তিনি বলেন, “গোটা সিন্ডিকেটে যোগ ছিল অভিষেকের পিএ-র। পশ্চিমবঙ্গে সব দফতরের যত বড় বড় কাজ, টুলু পেত। সে কাজ নিয়ে ছোট ছোট ঠিকাদারদের দিত।”
তিনি টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন জানিয়ে মুক্তাজুল বলেন, “রাস্তার একটি কাজ নিয়ে মামলাটি করেছিলাম। আমাকে অভিষেকবাবুর অফিসে ডাকা হল। তিন-চার ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। তারপর সুমিত এসে বলল, দাদা আপনি একটু বেশি লাফালাফি করছেন। আপনি কেসটা তুলে নিন। আপনার বিষয়টা আমি দেখছি।” হঠাৎ টুলুর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে অভিষেকের পিএ কেন এত উদ্যোগী হলেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। টুলুর এই সাম্রাজ্যের সঙ্গে সুমিতের কী যোগ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সুমিত রায় আপাতত বেপাত্তা। আর টুলু মণ্ডলও পগারপার। বীরভূমের পাথর সম্রাট বিদেশে পালিয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু, সাধারণ খাদান শ্রমিক থেকে পাথর সম্রাট হয়ে ওঠা টুলুর সম্পত্তি কোথায় কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
এরই মধ্যে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে টুলুর আত্মীয় ইফাজুল হকের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তালা ভেঙে আলমারি, ট্রাঙ্কে তল্লাশি চালানো হয়। ইফাজুলের বাড়িতে উদ্ধার হওয়া একটি লাল ট্রলি ব্যাগ ঘিরে রহস্য বেড়েছে। ইফাজুল বীরভূমের সিউড়িতে থাকেন। তিন চারদিন আগে সিউড়ি থেকে মঙ্গলকোটে ফেরার সময় এই লাল ট্রলি ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু, এখন সেই ট্রলি ব্যাগে কিছু পাওয়া যায়নি। পুলিশের অনুমান, ওই ট্রলি ব্যাগে টুলু মণ্ডলের নানা নথি হয়তো ছিল। কিন্তু, সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে।