
কাঁথি: কাঁথিতে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য। স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে খুনের সন্দেহ পরিবারের সদস্যের। ইতিমধ্যে তাঁরা পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। অ্য়াকশনও শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চাপানউতোর কাঁথির কিশোরনগর এলাকায়। সোমবারই পিয়ালি মিত্র নামে বছর ৩২ এর ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অপেক্ষা রিপোর্টের।
২০১২ সালে কিশোরনগরের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু মিত্রের সঙ্গে বিয়ে হয় পিয়ালির। কৃষ্ণেন্দু আবার পেশায় শিক্ষক। কাঁথি এক ব্লকের একটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত। স্ত্রীকে নিয়ে থাকছিলেন কিশোরনগরেই। পিয়ালির বাপের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত এলাকায়। তাঁদের এক সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন থেকেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা চলছিল। নেপথ্যে পরকীয়ার যোগ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। যে আবাসনে তাঁরা ভাড়া থাকতেন সেখানে থেকেই উদ্ধার হয় পিয়ালির দেহ। তাঁর গলায় ও শরীরের নানা প্রান্তে ক্ষতচিহ্ন বলে জানা যাচ্ছে। পোশাকে রক্তের দাগও ছিল। একটি হাতও মুচ়ড়ে ভেঙে দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। যা দেখেই মৃতের পরিবারের লোকজনের সন্দেহ তাঁদের মেয়েকে খুন করা হয়নি।
ঘটনার পরেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার ভাই অয়ন বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকেই তাঁর দিদির উপর অত্য়াচার চালাতো তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। তিনি বলছেন, “দিদির মৃত্যুর পিছনে গভীর এবং অপরাধমূলক কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। পুলিশকে তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছি।” পিয়ালির স্বামী কৃষ্ণেন্দু মিত্রকে যদিও পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। তাঁকে জেরা করেই তদন্তের গভীরে যেতে চাইছে পুলিশ। ধৃতকে এদিনই কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।