
পূর্ব মেদিনীপুর: স্পেশাল ক্লাসের নামে বাড়িতে ডেকে ছাত্রীকে লাগাতার যৌন হেনস্থা! ছাত্রীর অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেফতার করল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার পুলিশ। শনিবার তাঁকে কাঁথি আদালতে তোলা হয়। সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিযোগ, দিনের পর দিন বায়োলজি পড়ানোর নাম করে বাড়িতে ডেকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে হেনস্থা করা হয়েছে। কয়েক মাস ধরেই চলছিল বিষয়টি। প্রথমে বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লেগে যায়। পরে বাড়িতে বললেও, প্রকাশ্যে আনতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করতেন পরিবারের লোকজন। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ওই ছাত্রীকে আলাদা নজরে দেখতেন বায়োলজির শিক্ষক। অভিযুক্ত ছাত্রীকে স্পেশ্যাল ক্লাসের প্রলোভন দেখাতেন তিনি। তারপর নিজের ভাড়া বাড়িতে ডেকে তিনি ছাত্রীকে জোর করে জড়িয়ে ধরতেন, দিনের পর দিন তার উপর শারীরিক ও মানসিক যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ।
এতদিন কেন জানাতে পারেনি, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ওই ছাত্রী। সে বলে, এই কথা কাউকে জানালে আমাকে খুন করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ছাত্রী ওই শিক্ষকের কাছে টিউশন যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর ওই শিক্ষক তাকে ফোনেও উত্যক্ত করতে থাকেন বলে অভিযোগ। পরে জানা যায়, ক্লাসের অন্য ছাত্রীরাও একইভাবে ওই শিক্ষকের লালসার শিকার হয়েছে।
পরবর্তীতে ছাত্রীরা একজোট হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সব জানায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কোনও ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ। উল্টোদিকে, তিনি ছাত্রীদেরই মুখ বন্ধ রাখতে বকাঝকা করেন বলে দাবি করেছেন ছাত্রীরা। সম্প্রতি অভিযুক্তরা নির্যাতিতার বাড়িতে ফোন করে হুমকি দিতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে, শুক্রবার তার মা পটাশপুর থানায় বায়োলজি শিক্ষকের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নামেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই পুলিশ মূল অভিযুক্তকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে।