
মেদিনীপুর: ইংরাজি পরীক্ষা ভালই হয়েছিল। বাড়িতে এসেছিল বলেছিল বাবা-মাকে। কষ্ট করে ছেলেমেয়েকে পড়াচ্ছেন সন্তানকে। বাবা-মা চেয়েছিলেন, ছেলেটা ভাল করে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াক। সংসারের হাল ধরুক। ছেলে বায়না ধরেছিল একটা ল্যাপটপের। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব ছিল না সায়নদীপের বাবার। বলেছিলেন পরে কিনে দেবেন। ইংরাজি পরীক্ষা দিয়ে আসার পরও ছেলেকে সেকথা বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও ছেলে যা সিদ্ধান্ত নিল… পরীক্ষা দিয়ে আসার পর হাতপা ধুঁতে বাথরুমে গিয়েছিল সায়নদীপ। মা ভাতের থালা নিয়ে বসে থাকলেও, আর ছেলে ফিরছিল না। বাথরুমে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের মুখ দিয়ে গ্যাজলা বেরোচ্ছে।
ল্যাপটপ কেনার জন্য বাবাকে ভয় দেখাতে গিয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সায়নদীপ দাস নামে বছর ষোলোর ওই পরীক্ষার্থী তমলুকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিষাদল থানার লক্ষ্মা এলাকার স্কুল ছাত্র সায়নদীপ দাস। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে এসেই আচমকা বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় অবশেষে শনিবার দুপুরে তমলুক মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়।
বাবা-মা তো বটেই, প্রতিবেশীরাও জানাচ্ছেন, সায়নদীপ অত্যন্ত ভাল ছেলে বলেই এলাকার পরিচিত। পড়াশোনায় মন ছিল। বাবা-মার কাজেও হাত লাগাত সে। কিন্তু ইদানীং ল্যাপটপ কেনার বায়না ধরেছিল সে। সে কারণেই বাবা-মার সঙ্গে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হত। হঠাৎ কী কারণে এই ঘটনা ঘটাল, তা এখনও জানা যায়নি।
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাবা বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই ও একটা নতুন ল্যাপটপ কেনার জন্য জেদ করেছিল। কিন্তু টাকার অভাবে ল্যাপটপ কিনে দিতে পারিনি। তবে কী কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তার সঠিক কারণ এখন জানতে পারিনি।”