
হলদিয়া: নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর পিএ প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। মঙ্গলবার প্রায় ২০ হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন পেশ করলেন তিনি। মনোনয়নে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই প্রত্যয়ী বার্তা দিলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ‘নন্দীগ্রামে কল্পনাতীত রেকর্ড মার্জিনে জিতবে বিজেপি।’ মনোনয়নের মঞ্চ বক্তৃতা দিতে গিয়ে চন্দ্রনাথকেও মনে করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, চন্দ্রনাথের অপরাধ ছিল যে তিনি একজন বিরোধী দলনেতাকে সাহায্য করতেন।
মঙ্গলবার হাসিরানি রথের মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বক্তৃতার শুরুতেই চন্দ্রনাথকে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী প্রয়াত ভাতৃপ্রতীম চন্দ্রর মাতৃদেবীও বটে। চন্দ্রকে যেভাবে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে, আমি মনে করি চন্দ্রর সবথেকে বড় অপরাধ ছিল একজন বিরোধী দলনেতাকে সহযোগিতা করতেন।
এরপরই নন্দীগ্রামের জনতার উদ্দেশে বার্তা দেন, সঙ্গে প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ” আমি সকলের কাছে আবেদন করব, আপনারা যে বিপুল জয় এনে দিয়েছেন সরকার তৈরি হয়েছে, সরকার কাজ শুরু করেছে এবং মাত্র চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের বিপুল জনতার কাছে একটা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। নিশ্চিন্তে থাকবেন, যেদিন আমি তমলুকের সাংসদ থেকে সরে গিয়েছিলাম, সেদিন অনেকেই সাংসদের পরিষেবা ইত্যাদি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আপনাদের প্রয়োজনে, আপনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আমি প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে অভাব বুঝতে দিইনি।”
বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। আমি নন্দীগ্রামের জেল খাটা, কেস খাওয়া প্রত্যেক নেতাকে এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই আপনাদের সসম্মানে দলগত মর্যাদা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ আমার। মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার করার দায়িত্ব আমার। সেই দায়িত্ব পালন করব। নন্দীগ্রামের অবহেলিত, অত্যাচারিত প্রত্যেকটি পরিবারের পেটে ভাত, মাথায় ছাদ…এ আমার অঙ্গীকার। এটা পূরণ করব।”
নন্দীগ্রামে বিপুল ভোটে জেতার অঙ্গীকার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোট আমি করতে জানি। আমি বলে দিলাম। এমন মার্জিনে নন্দীগ্রামে বিজেপি জিতবে যেটা কখনও কল্পনা করতে পারেননি। বাকিটা সময় কথা বলবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “হারাতে এসেছিল নন্দীগ্রামে একুশে। হারিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছিলাম। এবার গঙ্গা পেরিয়ে ওর পাড়াতে গিয়ে ওকে হারিয়ে দিয়ে এসেছি।”
সংখ্যালঘুদেরও বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। বলেন, “আমি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের আবেদন করছি। একটা সুযোগ এসেছে আপনাদের কাছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন কি থাকবেন না। সরকারের সঙ্গে যদি থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে যদি কাজ করতে চান, কাজ নিতে চান ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। আপনি পরীক্ষায় পাশ করবেন নাকি ফেল করবেন, ওটা আপনাদের উপর ছেড়ে দিয়ে গিলাম। বাকি আমরা জিতছি, জিতব।”