
নন্দীগ্রাম: নৃশংস ঘটনা নন্দীগ্রামে (Nandigram)। কার্যত শিউরে উঠছেন এলাকাবাসী। এক বৃদ্ধাকে হাত-পা ইট দিয়ে বেঁধে পুকুরে ফেলে খুনের গুরুতর অভিযোগ উঠল। মৃতার নাম কানন সামন্ত (৭০)।
জানা গিয়েছে, গতকাল রাত আটটা থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। বাড়ির লোকজন প্রথমে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তাঁর হদিশ মেলেনি। এরপর বুধবার সকালে ফের বাড়ির কাছেই খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। তখনই বাড়ির অদূরে পুকুর থেকে দেহ হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃতের হাত ও পা ইট দিয়ে বাঁধা ছিল। তাঁরাই বলছেন, এই ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনা মাফিক খুন।
মৃতার স্বামী প্রভাংশু সামন্ত (৮০) সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁর দুই পুত্রবধূর দিকে। ঘটনাচক্রে, দেহ উদ্ধারের পর থেকেই খোঁজ মিলছে না বাড়ির দুই বৌমার। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
মৃতা কানন সামন্তের ভাই নারায়ণ সামন্তের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দুই পুত্রবধূ শ্বশুর-শাশুড়িকে ঠিকমতো খাবার দিতেন না। এমনকী বৃদ্ধ দম্পতিকে নিজেদের ছেলেদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার মতো করে খাবার চেয়ে খেতে হতো বলেও অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, “প্রতিদিন পাশের বাড়িতে বোন টিভি দেখতে যায়। তারপর এখানে শুয়ে খাওয়া-দাওয়া করে। কালকে রাত আটটার দিকে চলে গেছে টিভি দেখতে। ভগ্নিপতি অপেক্ষা করছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরেনি।”
ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে ফেরেন বড় ছেলে ভীম সামন্ত। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। যদিও তাঁর এই দাবি সন্তোষজনক না হওয়ায় পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
ছোট ছেলে অর্জুন সামন্তের এখনও কোনও হদিশ মেলেনি। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে ঘটনার আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।